সিঁদুর খেলা কখন এ বছরের দুর্গোৎসব ক্রমশ শেষের পথে। নবমী নিশি পেরলেই উমার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। বিজয়া দশমী পরতেই মা-কে বরণ, সিঁদুর খেলার মাধ্যমে বিদায় জানানো হবে। কখন হবে দশমীর সিঁদুর খেলা? বিসর্জনের নির্ঘণ্টই বা কখন?
ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর পূর্বে সধবা নারীরা দেবীকে সিঁদুর, মিষ্টি ও পান দিয়ে বরণ করে নেন। তারপর একে অপরের গালে সিঁদুর লাগিয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে। এ বছর সিঁদুর খেলার সময় কখন পড়েছে?
বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর বিজয়া দশমীর তিথি সূচনা হয়েছে ১৯ অক্টোবর রাত থেকেই। সিঁদুর খেলার শুভ সময় ২১ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৫ মিনিট থেকে। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে অপরাজিতা পুজো ও দশমী বিহিত পুজো সমাপ্তি হবে। এরপর সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা চলবে।
শাস্ত্র মতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের পূর্বে সিঁদুর খেলা ও দেবী বরণের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। দশমীর সকালে দেবীর ঘট নাড়ানো হয় এবং দর্পণ (আয়না) বিসর্জনের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এরপর অপরাজিতা লতার পুজো করে দেবীর চরণে প্রণাম জানানো হয়। বিবাহিত নারীরা ডালায় সিঁদুর, পান-সুপুরি, ধান-দূর্বা, মিষ্টি ও প্রদীপ নিয়ে দেবীর সামনে উপস্থিত হন। এরপর পানের পাতা দিয়ে দেবীর মুখ স্পর্শ করিয়ে মিষ্টি মুখ করানো হয়। বরণ ডালা থেকে শুদ্ধ সিঁদুর প্রথমে মা দুর্গা, শ্রী লক্ষ্মী ও শ্রী সরস্বতীর চরণে ও সিঁথিতে অর্পণ করা হয়। দেবীর বরণ শেষ হলে নারীরা প্রথমে বয়োজ্যেষ্ঠদের চরণে সিঁদুর দিয়ে প্রণাম করেন এবং সমবয়সীদের সিঁথিতে ও গালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপর মিষ্টি মুখ করিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
সিঁদুর খেলা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বঙ্গীয় সমাজের নারীশক্তির মেলবন্ধন ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। বিষাদ আর আনন্দের এই সন্ধিক্ষণে মা দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ ও শুভ বিজয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন।