বিপত্তারিণী পুজোশনিবার, ১৮ জুলাই উদযাপন হচ্ছে সঙ্কটনাশিনী দেবী বিপত্তারিণীর পুজো। দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের মধ্য অন্যতম হলেন দেবী বিপত্তারিণী। সনাতন ধর্মে মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও করুণাময় রূপ। 'বিপত্তারিণী' শব্দের অর্থই হল—যিনি সকল বিপদ-আপদ থেকে ভক্তদের রক্ষা করেন। তাই বহু শতাব্দী ধরে বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিবাহিত মহিলারা স্বামী, সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি এবং অকাল বিপদ থেকে রক্ষার জন্য নিষ্ঠাভরে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করে আসছেন। এ বছর জুলাইতে দুদিন এই পুজো করা হবে। তাই শনিবার, ১৮ জুলাই যদি বিপত্তারিণী পুজো করতে না পারেন তবে আবার কবে করতে পারবেন, জেনে নিন।
প্রতি বছরের মতো এবারও দুদিন ধরে আপামর বাঙালি মেতে উঠবে দেবীর আরাধনায়। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বলছে, জুলাই মাসে ১৮ জুলাই (১ শ্রাবণ) শনিবার এবং ২১ জুলাই (৪ শ্রাবণ), মঙ্গলবার নিষ্ঠাভরে পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত। রথযাত্রা থেকে উলটোরথের মাঝের এই বিশেষ শনিবার ও মঙ্গলবারই ব্রতের জন্য প্রশস্ত। তাই শনিবারের পর আবার মঙ্গলবারও এই ব্রত পালন করতে পারেন। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করলে সংসারের নানা বাধা, রোগ-শোক, অর্থকষ্ট এবং অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথও সুগম হয়।
বিপত্তারিণী পুজোর শুভ সময়
মঙ্গলবার, ৪ শ্রাবণ, ২১ জুলাই বিপত্তারিণী ব্রত। শুভ তিথি-(আষাঢ় শুক্লপক্ষ) সপ্তমী সকাল ৭টা ১৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত পড়ে অষ্টমী অহোরাত্র।
ব্রতর নিয়ম
বিপত্তারিণী পুজোর মূল চালিকাশক্তি হল ‘১৩’ সংখ্যাটি। এই পুজোয় সবকিছুই অর্পণ করতে হয় তেরো সংখ্যার হিসেবে। পুজোর থালায় সাজিয়ে রাখতে হয়— ঘট, আম্রপল্লব, শীষযুক্ত ডাব, একটি বিশেষ নৈবেদ্য এবং প্রধান অঙ্গ ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো। সঙ্গে থাকবে ১৩টি দূর্বা, ১৩ রকমের ফুল, ১৩ রকমের ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি। ভক্তিভরে এই উপচার সাজালেই সন্তুষ্ট হন মা।
ব্রতকথা ও নিয়মকানুন
ব্রতের আগের দিন থেকেই শুরু হয় সংযম। আগের দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। পুজোর দিন উপবাস থেকে মায়ের চরণে পুজো দিতে হয়। অঞ্জলি শেষে ব্রতীরা প্রসাদ গ্রহণ করেন। তবে এই প্রসাদেরও রয়েছে নিয়ম। চাল বা গমের তৈরি খাবার এদিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল খেয়েই উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। পুজো শেষে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত ১৩ গিঁটের লাল সুতো বা ‘ডোর’ ধারণের পালা। নিয়ম অনুযায়ী, মহিলারা বাম হাতে এবং পুরুষরা ডান হাতে এই পবিত্র সুতো বাঁধেন। অন্তত তিন দিন এই ডোর ধারণ করা আবশ্যিক।
কী করবেন আর কী করবেন না
বিপত্তারিণী পুজোর আগের ও পুজোর দিন আমিষ খাবেন না। আগের দিন নিরামিষ এবং পুজো শেষে ১৩ টা লুচি ও ১৩ রকমের ফল খেতে হয় তা প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করুণ। তবে চাল বা গমের জিনিস খাওয়া একেবারেই নিষেধ। কোনও অপরিচ্ছন্ন স্থানে বিপত্তারিণী পুজো করবেন না। নাহলে ঘরের সুখ ও শান্তির পরিবেশ নষ্ট হয়। পুজোর চলাকালীন কারও সঙ্গে কথা বলবেন না। এর ফলে দেবী রুষ্ট হতে পারেন এবং অর্থ সম্পর্কিত সমস্যা শুরু হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসায় ক্ষতি, বাড়িতে অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।