Premanand Maharaj : শিষ্যের মৃত্যুর পর আশ্রম ছেড়ে পালালেন প্রেমানন্দ মহারাজ, সামনে এল চাঞ্চল্যকর কারণ

এরই মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি এবং হিন্দুত্ববাদী নেতা দিনেশ শর্মা ফলাহারি দাবি করেছেন, কেলি কুঞ্জ আশ্রম দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু নকল সন্ত আশ্রমের জমি ও সম্পত্তি নিয়ে ব্যবসা করছেন।

Advertisement
শিষ্যের মৃত্যুর পর আশ্রম ছেড়ে পালালেন প্রেমানন্দ মহারাজ, সামনে এল চাঞ্চল্যকর কারণ মৃত দীপক লোধি ও প্রেমানন্দ মহারাজ
হাইলাইটস
  • ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণের মৃত্যু হয়
  • বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জের চারতলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়

প্রেমানন্দ মহারাজ কেলি কুঞ্জ আশ্রম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। মথুরার কয়েকজন সাধুর দাবি, বৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ ছেড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বেলবন আশ্রমে গিয়ে রয়েছেন তিনি। শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণের মৃত্যুর পর থেকেই কেলি কুঞ্জ আশ্রমকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম বদলের খবর সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কেলি কুঞ্জ আশ্রমের ভিতর পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট অশান্ত। কয়েকজন সন্তের অভিযোগ, আশ্রমের ভিতরে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছেন প্রকৃত সাধুরা, অন্যদিকে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে নকল সন্ত হিসেবে আশ্রম ও জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলি কতখানি সত্য তা জানা যায়নি। 

শিষ্যের মৃত্যুর পর থেকেই ডামাডোল

২৫ সেপ্টেম্বর প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণের মৃত্যু হয়। বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জের চারতলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসে। পাশাপাশি তিনটি পরিবার তাঁদের পরিজন নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কেলি কুঞ্জ আশ্রমের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আশ্রম কর্তৃপক্ষও তদন্তে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকেই আশ্রমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আশ্রমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঘটনায় প্রেমানন্দ মহারাজ অত্যন্ত আঘাত পেয়েছেন।

'আশ্রম নকল সন্তদের দখল'

এরই মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি এবং হিন্দুত্ববাদী নেতা দিনেশ শর্মা ফলাহারি দাবি করেছেন, কেলি কুঞ্জ আশ্রম দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু নকল সন্ত আশ্রমের জমি ও সম্পত্তি নিয়ে ব্যবসা করছেন। তাঁর আরও দাবি, এই ধরনের ব্যক্তিরা বৃন্দাবনের প্রায় ১৫টি আশ্রমের উপর দখল নিয়েছেন। দীনেশ শর্মার দাবি, এই পরিস্থিতিতে প্রেমানন্দ মহারাজ অত্যন্ত দুঃখিত। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত সাধুরা মহারাজের সঙ্গে বেলবনে চলে গিয়েছেন।

Advertisement

'মহারাজের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে'

মথুরার সাধ্বী ইন্দুলেখাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি প্রেমানন্দ মহারাজের নাম ব্যবহার করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, মহারাজের আড়ালে ভয় দেখানো এবং জমি দখলের মতো কাজ চলছে। ইন্দুলেখার দাবি, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, প্রেমানন্দ মহারাজ বেলবনে চলে গিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

'অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তদন্তের দাবি' 

মহামণ্ডলেশ্বর রাধানন্দ গিরিও আশ্রমের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যার কারণে প্রেমানন্দ মহারাজ যমুনা পেরিয়ে বেলবনে গিয়ে রয়েছেন। রাধানন্দ গিরির দাবি, ভালো সাধুরা প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে থেকে পুজো-অর্চনা ও সাধনা করছেন। অন্যদিকে, বৃন্দাবনে থাকা কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি হুমকি দেওয়া ও ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেছেন, সাধুদের আড়ালে থাকা এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা দরকার, যাঁরা একজন বড় সাধুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। এই বিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

দীপকের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

দীপক লোধীর মৃত্যুর ঘটনাতেও তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে ছাদে যাওয়ার পর নীচে পড়তে দেখা গিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অর্থাৎ, একদিকে শিষ্যের মৃত্যুকে ঘিরে তদন্ত, অন্যদিকে কেলি কুঞ্জ আশ্রমের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ। এর মধ্যেই প্রেমানন্দ মহারাজের বেলবনে চলে যাওয়ার খবর সামনে আসায় গোটা বিষয়টি নতুন করে চর্চায় এসেছে। তবে আশ্রমের ভিতরে জমি দখল বা নকল সন্ত সংক্রান্ত অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

POST A COMMENT
Advertisement