Who is Bageshwar Baba: বাগেশ্বরবাবা লোকটি কে? ছেলেবেলা কীভাবে কেটেছে ধীরেন্দ্রর? বিতর্কিত 'বাবা' সম্পর্কে বিস্তারিত

ভগবান কৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা। এর আগে দুর্গাপুজোয় আমিষভোজীদের 'পাখণ্ডী' বলেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই বাগেশ্বর বাবা? কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন তিনি? কীভাবে কেটেছে তাঁর ছোটবেলা? বিস্তারিত জেনে নিন।

Advertisement
বাগেশ্বরবাবা লোকটি কে? ছেলেবেলা কীভাবে কেটেছে ধীরেন্দ্রর? বিতর্কিত 'বাবা' সম্পর্কে বিস্তারিতবাগেশ্বর বাবা কে?
হাইলাইটস
  • ভগবান কৃষ্ণ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা
  • এর আগে দুর্গাপুজোয় আমিষভোজীদের 'পাখণ্ডী' বলেছিলেন
  • কে এই বাগেশ্বর বাবা? কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন তিনি?

ফের বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি ভগবান রামের 'গুণগান' করলেন। অপরদিকে কৃষ্ণকে 'অপমান' করে বসলেন বলে অভিযোগ। তাতেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি। দিয়েছেন সাফাই। তবে তারপরও চলছে সমালোচনা। এর আগে কলকাতায় এসে বিতর্ক জড়িয়েছিলেন তিনি। দুর্গাপুজোয় আমিষভোজীদের 'পাখণ্ডী' বলেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতেই অনেকের মনেই প্রশ্ন, বাগেশ্বর বাবা আদতে কে? কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন তিনি? কীভাবে কেটেছে তাঁর ছোটবেলা? আসুন সবটা জেনে নেওয়া যাক। 

বাগেশ্বর বাবা কে?
প্রথমেই বলি, ৩০ বছর বয়সী বাগেশ্বর বাবার আসল নাম হল ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তাঁর জন্ম মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরের গাদা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম বাবা রামকৃপাল গর্গ। মায়ের নাম মা সরোজ গর্গ। তাঁর বাবা রামকৃপাল পেশায় পুরোহিত ছিলেন। 

দারিদ্র্য নিয়েই কেটেছে ছেলেবেলা
ছোটবেলা থেকে দারিদ্র্য দেখে বড় হয়েছেন তিনি। কুঁড়েঘরে থাকতেন তিনি। নিজের গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেন। তবে গল্প শোনানোর কাজে তাঁর বিশেষ পারদর্শীতা ছিল। 

কীভাবে আধ্যাত্মিক পথ বেছে নিলেন?
বিষয়টা নিয়ে লেখা রয়েছে বাগেশ্বর ধামের ওয়েবসাইটে। সেই ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ধীরেন্দ্র তখন ছোট। খুব বৃষ্টি পড়ছিল একটি রাতে। সেই সময় বাড়ির খাটের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরে ছিল না কোনও খাবার। এই সময় নিজের পরিবারের কষ্ট দেখতে পান ধীরেন্দ্র। তাঁর দাদু বাগেশ্বর ধাম মন্দিরে থাকতেন। পরের দিনই তিনি নিজের দাদুর কাছে যান। এরপরই নাকি আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যান বাগেশ্বর বাবা।

সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়
প্রথমেই বলেছি, গল্প শোনাতে ভালবাসতেন ধীরেন্দ্র। সেই মতো নির্মোহী আখড়ার হনুমান মন্দিরের সামনে সভা বসাতেন তিনি। সেখানে তাঁর কথা শুনতেন অনেক ভক্ত। এই সময়ই রামচরিতমানস পাঠ শুরু করেন। এভাবেই কিছুটা সময় এগিয়ে যায়। তারপর বয়স বাড়লে তিনি 'দৈব দরবার' শুরু করেন। ধীরে ধীরে সাধারণ ধীরেন্দ্র হয়ে ওঠেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর 'অলৌকিক ক্ষমতা' রয়েছে বলে ছড়িয়ে পড়ে। 

Advertisement

ভারত ছেড়ে দিন, বিশ্বের একাধিক দেশে রয়েছে তাঁর ভক্ত। তিনি মাথায় পাগড়ি পড়ে থাকেন। হাতে থাকে গদা। 

গরিবের পাশে বাগেশ্বর ধাম
বর্তমান বাগেশ্বর ধামের দায়িত্বে রয়েছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রচার করেন তিনি। সেই সঙ্গে একাধিক সমাজসেবামূলক উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন তিনি। বাগেশ্বর ধামের উদ্যোগে অসহায় ও গরিব পরিবারের জন্য গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি অভাবী মানুষদের বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করেন। এমনকী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছেন। ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরে একটি দাতব্য হাসপাতালও গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই হাসপাতালের শিলান্যাস করেন।

একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন
বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ভক্তদের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি নানা দাবি করে দেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈজ্ঞানিক বলে দাবি করেছে একটি সংগঠন।

এছাড়াও ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, চিকিৎসা ও ওষুধের পরিবর্তে আশীর্বাদ এবং মন্ত্রপাঠের উপর বেশি গুরুত্ব দেন বাগেশ্বর বাবা। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলেও ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement