FCRA Amendment Bill 2026: FCRA বিল কী? কেন এই বিল ঘিরে এত বিরোধিতা যে JPC-তে পাঠাতে হল কেন্দ্রকে? সহজে বুঝে নিন

এই বিলে মূল উদ্বেগের বিষয়টি হল, এমন একটি পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে কোনও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত বা পুনর্নবীকরণ না হলে, বিদেশি অনুদানে তৈরি ওই সংস্থার সম্পত্তি দখল, পরিচালনা বা বিক্রি করার ক্ষমতা একটি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে।

Advertisement
FCRA বিল কী? কেন এই বিল ঘিরে এত বিরোধিতা যে JPC-তে পাঠাতে হল কেন্দ্রকে? সহজে বুঝে নিনFCRA বিল নিয়ে বিস্তারিত
হাইলাইটস
  • কেন্দ্রের কী দাবি এই বিল নিয়ে?
  • FCRA বিল কী? এই বিল আইন হলে কী হবে?
  • কেন ক্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলি বিরোধী?

সংসদে বাদল অধিবেশনে দু'টি বিল নিয়ে ব্যাপক তর্জা চলছে। একটি হল, লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বিল, অপরটি হল বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল (Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026)। বাদল অধিবেশন শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকি। গোটা অধিবেশন সেশনই বিরোধীদের হইহট্টগোলে কেটে গেল। এর মধ্যে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলটি কেন্দ্র যুগ্ম সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। কারণ এই বিল ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, চার্চের বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এমন কিছু বিধানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, যেগুলিকে তাঁরা কঠোর ও দমনমূলক বলে অভিহিত করছেন।

এই বিলে মূল উদ্বেগের বিষয়টি হল, এমন একটি পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে কোনও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত বা পুনর্নবীকরণ না হলে, বিদেশি অনুদানে তৈরি ওই সংস্থার সম্পত্তি দখল, পরিচালনা বা বিক্রি করার ক্ষমতা একটি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে। গত ২৫ মার্চ এই বিল লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। তারপর থেকেই বিলটি ঝুলে রয়েছে। এতে কোনও NGO-র সরাসরি ম্যানেজারদের পাশাপাশি সংস্থার ডিরেক্টর ও ট্রাস্টিদেরও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হতে পারে। প্রস্তাবিত বিধানে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘প্রায়র পারমিশন’ বা আগাম অনুমোদনের আওতায় পাওয়া বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও তা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কেন্দ্রের কী দাবি এই বিল নিয়ে?

NGO গুলির ফান্ডিং রেগুলেট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মন্ত্রকের দাবি, এই বিল আনার মূল উদ্দেশ্য হল, বিদেশি অনুদান ও সেই অর্থে তৈরি সম্পত্তি একটি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হস্তান্তর, নজরদারি, পরিচালনা ও নিষ্পত্তির জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। এর আওতায় সম্পত্তির অস্থায়ী ও স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি শাস্তির বিধানগুলিকে আরও যুক্তিসঙ্গত করা হবে এবং কোনও তদন্ত শুরু করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের বাধ্যতামূলক অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।

Advertisement

বিতর্ক তৈরি হতেই অমিত শাহের মন্ত্রক গত ২২ জুলাই স্পষ্ট করে দেয়, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র তখনই বিদেশি অনুদানের সম্পত্তি ম্যানেজ করতে পারবে, যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থার রেজিস্ট্রেশন সিজ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, 'প্রথমে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে নেওয়া হবে। পরে NGO-র রেজিস্ট্রেশন আবার চালু হলে সেই সম্পত্তি পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে যেকোনও পরিস্থিতিতেই উপাসনাস্থলের ধর্মীয় পরিচয় ও চরিত্র বজায় থাকবে।' 

FCRA বিল কী? এই বিল আইন হলে কী হবে?

FCRA-র পুরো নাম হল ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল। বাংলায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল। এই বিলে বলা হয়েছে, কীভাবে কোনও ভারতীয় নাগরিক, অ্যাসোসিয়েশন, NGO, ট্রাস্ট ও কোম্পানি বিদেশ থেকে আর্থিক অনুদান, শেয়ার বা অন্যান্য সামগ্রী কীভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারবে। এর মধ্যে তিনটি বিষয় রয়েছে, কারা বিদেশি অনুদান পেতে পারে ও কী পরিস্থিতিতে পেতে পারে, এই আইনে বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে গ্রহণ করতে হবে, তার হিসাব কীভাবে রাখতে হবে এবং সরকারের কাছে কীভাবে রিপোর্ট দিতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কিছু নির্দিষ্ট বিদেশি অর্থে করা কাজের উপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

কেন ক্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলি বিরোধী?

এই বিলটি ঘিরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। বিতর্কের মূল জায়গায় রয়েছে প্রস্তাবিত কয়েকটি বিধান। এর মধ্যে অন্যতম হল, কোনও সংগঠনের FCRA রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে গেলে বা বাতিল হলে, সেই সংগঠনের সম্পত্তি পরিচালনা করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার প্রস্তাব। বিরোধীদের আশঙ্কা, এই বিধান কার্যকর হলে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংস্থা সমস্যায় পড়তে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।

POST A COMMENT
Advertisement