
তামিলনাড়ুতে শুরু হল থালপতি রাজ। রবিবার TVK প্রধান সি জোসেফ বিজয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বসেছে শপথগ্রহণের মেগা অনুষ্ঠানের আসর। উপস্থিত রয়েছেন রাহুল গান্ধী।
সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট এবং গাঢ় রঙের ব্লেজারে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠে এই থলপতিকে দেখতে এদিন অনুগামীদের ভিড় উপচে পড়েছে। শপথবাক্য পাঠের সময়ে 'আমি, সি জোসেফ বিজয়...,' উচ্চারণ করতেই করতালিতে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। তাঁর জনপ্রিয়তম ডায়লগের থেকেও যেন এই মুহুর্ত স্মরণনীয় হয়ে রইল থলপতির জীবনে।
তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসা বিজয়ের জীবনে একটি সিনেমার স্ক্রিপ্টসের থেকে কম কিছু নয়। এটি তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক কয়েক দশকের সবচেয়ে নাটকীয় রাজনৈতিক উত্থানগুলির মধ্যে একটি। এদিন অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক TVK-র পতাকা হাতে জড়ো হয়েছিলেন। রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মীরা বাজি ফাটিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একসময় পর্দায় তাঁর ‘পাঞ্চ ডায়লগ’-এর জন্য পরিচিত বিজয় শপথ নিতেই তামিলনাড়ুর প্রায় ছয় দশকের মধ্যে প্রথম অ-দ্রাবিড় মুখ্যমন্ত্রীর জার্নি শুরু হল।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল জাঁকজমক, আবেগ এবং রাজনৈতিক নাটকীয়তার এক অনন্য মিশ্রণ।
বিজয় শপথ নেওয়ার সময় দর্শকাসনে বসে আবেগপ্রবণ চোখে তাঁর বাবা-মা দেখছিলেন তাঁদের ছেলের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত। অনুষ্ঠানে তারকাখচিত মাত্রা যোগ করেন তৃষা কৃষ্ণন, যিনি নজরকাড়া নীল রেশমি শাড়িতে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দেখে তিনি মুগ্ধ।
রাহুল গান্ধী দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন তাঁর দলকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার তামিলনাড়ুর শাসক জোটের অংশ হতে দেখার সাক্ষী থাকতে। তবে রবিবারের এই জাঁকজমকপূর্ণ মুহূর্তের পিছনে ছিল সরকার গঠনের জন্য টানা ৪ দিনের তীব্র রাজনৈতিক দরকষাকষি। নবাগত TVK ১০৮টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল।
কংগ্রেস দ্রুত সমর্থনের হাত বাড়ালেও, অন্যান্য দলকে রাজি হতে কিছুটা সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত বাম দলগুলি, VCK এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ নিঃশর্ত সমর্থন জানালে বিজয় সরকার গঠনের দাবি পেশ করতে সক্ষম হন এবং রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আমন্ত্রণ পান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিজয়। যে সৌজন্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ তামিলনাড়ুতে রাজ্যপালের ভূমিকা প্রায়শই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে থেকেছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর এখন নজর বিধানসভায় আস্থা ভোটের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পুরোপুরি গ্রহণের আগে যে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তামিলনাড়ুর নতুন 'থলাপতি' বিজয়কে।