সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল শুনানিশনিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল রাজধানী দিল্লিতে। যার জেরে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। আর সেই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। সেই মতো দায়ের হয়েছে আদালত অবমাননার আবেদন। আর তার শুনানি করতে রবিবার, ১১ অক্টোবর বিশেষ অধিবেশনে বসছে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ, শীর্ষ আদালতের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ মানা হয়নি। তার বদলে দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে দুটি মামলার শুনানি হবে। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালত অবমাননার আবেদনটি দায়ের করেছেন।
এছাড়াও শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন প্রতিবাদকারীদের আটক করার ঘটনা নিয়ে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীও মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর করা হেবিয়াস কর্পাস মামলারও শুনানি করবে বিশেষ বেঞ্চ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (DMRC) চেয়ারপার্সন ডি তারার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। সেই মতো আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীর যুক্তি, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ এই কাজটা করেছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন বাতিলের ফলে যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে। দেশের রাজধানীতে স্বাভাবিক জনজীবনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির এখনও বিচার করেনি আদালত।
৯ অক্টোবর কী নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট?
এই আদালত অবমাননার আবেদন সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের নির্দেশের সূত্র ধরেই দায়ের করা হয়েছে। 'এম এ বেবি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বিরোধী দলগুলির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে গণপরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানি হয়েছিল।
শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের জারি করা নির্দেশের কথা বিবেচনা করে আদালত। ওই নির্দেশে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে আসা মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন বন্ধ রাখা স্টেশনের সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই বিজ্ঞপ্তিগুলি জরুরি গণপরিবহণের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। সেটা ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার শামিল বলে মনে হচ্ছে।
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, মেট্রো চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মেট্রো ও অন্যান্য রেল পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
যাত্রীদের অসুবিধা এড়াতে আগাম প্রচার করার উপরেও জোর দেয় বেঞ্চ। ট্র্যাফিক সংক্রান্ত পরামর্শ বা নির্দেশিকা জারি করতে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, এমন বিকল্প স্থান বিবেচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
যদিও আবেদনকারীর বক্তব্য, গণপরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিধিনিষেধ জারি ছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ দিল্লির বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে এবং শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চে আদালত অবমাননার আবেদন এবং আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগগুলি বিবেচনা করা হবে।