বিরাট প্রসঙ্গ উঠল সুপ্রিম কোর্টে।সরকারকে বিরাট কোহলির সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন? দীপাবলিতে আতশবাজি পোড়ানো হবে। আর তার জেরে বাড়বে দূষণের মাত্রা। দিল্লি এনসিআর এলাকায় আতশবাজির কারণে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। সেখানেই আদালতের পরামর্শ, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিরাট কোহলির মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। উৎসব পালনের পাশাপাশি পরিবেশদূষণের বিষয়টিও যাতে মাথায় রাখেন মানুষ।
বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্না বি বড়ালের বেঞ্চে চলছিল এই মামলার শুনানি। গত বছর দীপাবলিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্তগুলি কার্যকর করতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লির কর্তাদের কাছে তা জানতে চায় আদালত।
২০২৫ সালে দীপাবলির আগে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি ও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সিনিয়র আইনজীবী উত্তরা বব্বর জানান, গত বছরের বাজি ও দূষণ সংক্রান্ত সমস্ত পরিসংখ্যান আদালতের সামনে পেশ করা হয়নি। তিনি জানান, দিল্লিতে বায়ুর গুণমান পরিমাপের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু দীপাবলির সময় তার মধ্যে মাত্র ৯টি কেন্দ্র ধারাবাহিকভাবে দূষণের তথ্য নথিভুক্ত করেছিল। যে সময়টিতে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বাড়ার আশঙ্কা ছিল, সেই সময়ের সম্পূর্ণ তথ্য নেই। ফলে বাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ কতটা বেড়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করা আইনজীবীও স্বীকার করেন, বাজি পোড়ানোর পরে দূষণের মাত্রা বেড়েছিল। তবে সরকারের দাবি, দূষণের পরিসংখ্যান সংক্রান্ত হলফনামা আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের মূল উদ্বেগ, বাজি বিক্রি ও ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পেশ করা হয়নি।
বিরাটকে অনুরোধ
বিচারপতি সুন্দ্রেশের মন্তব্য,'দিল্লিতে আপনারা যদি বিরাট কোহলির মতো কাউকে সাহায্যের অনুরোধ করেন। বিরাটের মতো জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা ক্রিকেটারদের দিয়ে একটি বিশেষ বার্তা প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারেন। যাতে এবারের দীপাবলি আনন্দের উৎসব হয়ে ওঠে। আলোর উৎসবের প্রকৃত আনন্দ আমরা সকলে উপভোগ করি। দীপাবলি তো আলোরই উৎসব'।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসন যদি নিয়ম কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তা হলে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরিমানা করা, তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পরামর্শও দিয়েছে আদালত। এর ফলে বাজির বেআইনি বিক্রি কমানো সম্ভব হতে পারে।