RBI Record Dividend Transfer 2026: কেন্দ্রকে ২.৮৭ লাখ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিচ্ছে RBI, আর্থিক ঘাটতি মেটাতে বড় ভরসাRBI Record Dividend Transfer 2026: বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এল বিরাট স্বস্তির খবর। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের জন্য কেন্দ্র সরকারকে রেকর্ড ২.৮৭ লাখ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ২২ মে, ২০২৬ তারিখে আরবিআই-এর সেন্ট্রাল বোর্ডের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারের ঘরে স্থানান্তরিত হতে চলা এই উদ্বৃত্ত তহবিলের প্রকৃত পরিমাণ ২,৮৬,৫৮৮.৪৬ কোটি টাকা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বিপুল অঙ্কের ডিভিডেন্ড হস্তান্তরের নজির আগে কখনও দেখা যায়নি।
গত বছর অর্থাৎ পূর্ববর্তী আর্থিক বছরেও আরবিআই সরকারকে ২.৬৯ লাখ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের প্রাপ্তি প্রায় ২৭.৪ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সংশোধিত ইকোনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক (ECF)-এর নিয়ম মেনেই এই উদ্বৃত্ত অর্থ হস্তান্তরের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমেই আরবিআই ঠিক করে যে নিজেদের আপৎকালীন তহবিলে কত টাকা গচ্ছিত রাখা হবে এবং কতটা উদ্বৃত্ত সরকারকে দেওয়া হবে। এই দফায় বাজারগত অস্থিরতা ও আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত ‘কনটিনজেন্সি রিস্ক বাফার’ (CRB) ফান্ডের পরিমাণ ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ করেছে আরবিআই। এই ফান্ডে এবার ১.০৯ লাখ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিট ২০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৭ লাখ কোটি টাকায়। আরবিআই-এর মোট আয় ২৬.৪২ শতাংশ বাড়লেও, খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৭.৬০ শতাংশ। মূলত বিদেশি মুদ্রা বাজারে (ফোরেক্স মার্কেট) ডলার বিক্রির লাভজনক হস্তক্ষেপ থেকেই আরবিআই-এর আয়ের এই বড় অংশটি এসেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক হিসেবে ১৯৩৫ সালের ১ এপ্রিল পথ চলা শুরু করেছিল আরবিআই। মুম্বইয়ে সদর দফতর অবস্থিত এই শীর্ষ ব্যাঙ্ক কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরবিআই-এর ডিভিডেন্ডের ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। চলতি ২০২৬ আর্থিক বছরের বাজেটে কেন্দ্র সরকার অবশ্য আরবিআই এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিভিডেন্ড বাবদ প্রায় ৩.১৬ লাখ কোটি টাকা প্রাপ্তির অনুমান করেছিল। শীর্ষ ব্যাঙ্কের দেওয়া লভ্যাংশ সেই অনুমানের চেয়ে সামান্য কম। এমনকি বেশ কয়েকজন অর্থশাস্ত্রীও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে এই হস্তান্তরের পরিমাণ ২.৯ লাখ কোটি থেকে ৩.২ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে সামান্য কম এই লভ্যাংশ বন্ড মার্কেটে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে সরকারের রাজকোষীয় ঘাটতি (Fiscal Deficit) সামলানোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। চলতি অর্থবর্ষে জিডিপির ৪.৩ শতাংশ রাজকোষীয় ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে মোদি সরকার। বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘাটতি বেড়ে ৪.৭ শতাংশ বা ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে মধ্য-প্রাচ্যের যুদ্ধকালীন সংকট এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যে চাপ রয়েছে, তার মাঝে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের ভর্তুকি ও জনকল্যাণমুখী পাবলিক এক্সপেন্ডিচার বা সরকারি ব্যয় পরিচালনায় মস্ত বড় হাতিয়ার হবে। কিছু বিশেষজ্ঞ এই বড় হস্তান্তরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও, অন্য এক শিবিরের মত— এতে আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় থাকবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, সমস্ত রকম আর্থিক ঝুঁকি খতিয়ে দেখেই এই চূড়ান্ত হিসাব কষা হয়েছে।