প্রেমানন্দের শিষ্যের মৃত্যুতে রহস্য।বৃন্দাবনে শ্রীহিত রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপকের মৃত্যু নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ওই ঘটনায় গৃহস্থ শিষ্যদের পোশাক নিয়ে কড়া নিয়ম চালু করল আশ্রম কর্তৃপক্ষ। তবে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের তরফে ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে কেউই রাজি হননি। প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনায় আশ্রমের কার্যপ্রণালী এবং শিষ্যদের পরিচয় নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে? কীভাবে মৃত্যু হল শিষ্য রসিক দুলারির?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুর কথা উঠে এসেছে। তদন্তে মৃতের ঘর থেকে একটি ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডারও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান সাধু-সন্তরা। তাঁদের বক্তব্য, সনাতন সংস্কৃতি এবং বৃন্দাবনের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে এই ঘটনা। তাই প্রকৃত তদন্ত হোক।
রসিকের মৃত্যুর মুহূর্তের ভিডিও
কেলি কুঞ্জের রসিক দুলারি প্রায় তিন মাস ধরে গুরু কৃপা কুঞ্জ ভবনে থাকতেন। ভবনটি প্রেমানন্দের ট্রাস্ট কেলি কুঞ্জের বলে জানা গিয়েছে। সেখানে প্রেমানন্দের আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ৫০ জনেরও বেশি শিষ্য এবং সেবাদার থাকেন। ভবনটি প্রেমানন্দের পুরনো কেলি কুঞ্জ আশ্রম থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। এই ভবনেরই চতুর্থ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে রসিক দুলারি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। শুরুতে ঘটনাটি আত্মহত্যার বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ফরেন্সিক পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা এবং তাঁর সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যৌনাঙ্গে আঘাত কীভাবে?
যে ঘরে রসিক দুলারি থাকতেন, সেখান থেকে একটি ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডার উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের বিষয়টিও ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে। ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি নিজেই গ্রাইন্ডার আঘাত করেছিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দীপকের শরীরে অস্বাভাবিক আঘাতগুলি কীভাবে এল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রিপোর্টে একাধিক আঘাত
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দীপকের শরীরে মোট ৬টি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন। তাঁর পায়ের হাড় ভেঙেছিল, পাঁজরেও ফ্র্যাকচার ছিল। মাথাতেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মেলে। যৌনাঙ্গেও গুরুতর আঘাত ছিল। সেটি কেটে যাওয়ার কথা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই আঘাতগুলি নিজে থেকে হয়েছিল, নাকি অন্য কারও কারণে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দীপকের রক্তের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে জানা যাবে, ঘটনার আগে তিনি কোনও মাদক, বিষাক্ত পদার্থ খেয়েছিলেন কিনা।
দীপকের পরিবারের কী অভিযোগ?
থানায় দীপকের পরিবার অভিযোগ করেছে, ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হত না। সেই অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মী ও সেবাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার আগে রসিক দুলারি কার কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছিল, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। সে কারণে তাঁর মোবাইলের তথ্য ও ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নতুন পোশাকবিধি
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে সব শিষ্য গৃহস্থ এবং কোনও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, যেমন ঠেলা বা দোকান চালা, তাঁদের সাধারণ পোশাক মানে কুর্তা-পাজামা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আর আশ্রমের নির্দিষ্ট সাদা পোশাক পরতে পারবেন না। যে সব শিষ্য গৃহস্থ এবং মহারাজজির কেলি কুঞ্জের সেবার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদেরও সাধারণ পোশাক বা কুর্তা-পাজামা পরা বাধ্যতামূলক। সাদা পোশাক পরার অনুমতি থাকবে শুধুমাত্র সেই সব ব্যক্তি ও সদস্যের, যাঁরা প্রেমানন্দ মহারাজের সেবা, কুঞ্জের দেখভালের কাজে যুক্ত। এখন থেকে কেলি কুঞ্জে পোশাকের এই পরিবর্তন দেখা যাবে। আশ্রমে মহারাজের শিষ্যের মৃত্যুর পরই এই সিদ্ধান্ত।