প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্কুলের সহপাঠী বিপাকে পড়েছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ। গুরুতর অভিযোগ BJP-র বিরুদ্ধে। আর তাই সমাধান চাইতে সটান হাজির হলেন বন্ধুর কাছে। এ বন্ধু যে সে বন্ধু নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর বন্ধুটির নাম আসগর আলি ভোহরা।
মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দারে কয়েক দশক পুরনো জমি-বিবাদে CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই আসগর আলি ভোহরা। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাক্তন স্কুল সহপাঠী। ৮১ বছরের আসগর আলি ভোহরার অভিযোগ, BJP বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার সঙ্গে যুক্ত নির্মাণ সংস্থার লোকজন জাল নথি তৈরি করে তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করেছে।
ভোহরা গুজরাটের ভাডনগরের বিএ স্কুলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে পড়াশোনা করেছিলেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের অভিযোগ বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে একটি চিঠি জমা দেন।
আসগর আলি ভোহরার দাবি, ১৯৮৯ সালে ভায়ান্দার ইস্টের নাভঘর রোডে প্রায় ২ হাজার ৮১০ বর্গমিটার জমি তিনি একটি রেজিস্টার্ড চুক্তির মাধ্যমে আইনি ভাবে কিনেছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি কখনও ওই জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি।
তবে মোদীর সহপাঠী অভিযোগ করেছেন, ২০১১ সালে স্বয়ম বিল্ডার্সের সঙ্গে যোগসাজশ করে জমি সংক্রান্ত জাল নথি তৈরি করা হয়। এরপর তাঁর অজান্তেই জমিটিকে দু'টি অংশে ভাগ করা হয়। আসগর আলি ভোহরার অভিযোগ অনুযায়ী, জমির একটি অংশের দখলদার হিসেবে স্ময়ম বিল্ডার্সকে দেখানো হয়। অন্য অংশের নিয়ন্ত্রণ সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনের হাতে রয়েছে বলে নথিতে দেখানো হয়। সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে BJP বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার যোগ রয়েছে বলে মোদীর সহপাঠী দাবি করেছেন।
এদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে তাঁর দাবি থাকা সত্ত্বেও মীরা-ভায়ান্দার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের টাউন প্ল্যানিং দফতর ওই বিতর্কিত জমিতে নির্মাণের অনুমতি দেয়।
তিনি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রাজস্ব দফতর এবং স্থানীয় পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নথি জাল করার ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ করেনি।
জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৫ সালে আসগর আলি ভোহরা একটি FIR দায়ের করেছিলেন। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। তাঁর দাবি, FIR দায়েরের প্রায় ১১ বছর পর, ২০২৬ সালে CID এই মামলায় রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এত দীর্ঘ সময় কেন লাগল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপের কারণে আধিকারিকরা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।
আসগর আলি ভোহরা আরও দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু তার আগে তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বা নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি।
বছরের পর বছর পুলিশ, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এবং মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাছে বিষয়টি নিয়ে আবেদন করার পর এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারস্থ হন তাঁর সহপাঠী। জমি-বিবাদ এবং নির্মাণ সংস্থা ও সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তিনি CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের ওই শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।