FCRA থেকে ‘বন্দে মাতরম’, বাদল অধিবেশনে ঝড় তুলতে পারে এই ৬ বিল

সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনেই কেন্দ্রীয় সরকার মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে পারে। সেই সঙ্গে ডিলিমিটেশন(Delimitation) সংক্রান্ত বিলও আনতে পারে।

Advertisement
FCRA থেকে ‘বন্দে মাতরম’, বাদল অধিবেশনে ঝড় তুলতে পারে এই ৬ বিলFCRA থেকে ‘বন্দে মাতরম’, বাদল অধিবেশনে মোদী সরকারের ৬ বিল ঘিরে উত্তাল হতে পারে সংসদ।

সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনেই কেন্দ্রীয় সরকার মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে পারে। সেই সঙ্গে ডিলিমিটেশন(Delimitation) সংক্রান্ত বিলও আনতে পারে। অফিসিয়ালি এখনও এই বিলগুলির উল্লেখ করা হয়নি। তবে হিসেব বলছে, এই অধিবেশনে অন্তত ৬টি এমন হেভিওয়েট বিল আনতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে দু'টি নিয়ে রীতিমতো কেন্দ্র-বিরোধীদের তুলকালাম হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনাদের এ বিষয়ে আগাম জেনে রাখা জরুরি। আসুন, সহজ ভাষায় এই বিলগুলির বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

সূত্রের খবর, এই অধিবেশনেই বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) সংশোধনী এবং জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনের সংশোধনী; এই দুই প্রস্তাবিত বিল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

FCRA সংশোধনী বিল 
প্রস্তাবিত Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026-এর মূল উদ্দেশ্য একটাই। তা হল বিদেশ থেকে অনুদান পায়, এমন বেসরকারি সংস্থাগুলির(NGO) উপর আরও কড়া নজরদারি চালানো।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সংস্থার FCRA লাইসেন্স বাতিল হলে, রিনিউয়াল না হলে বা তা বাতিল করা হলে, বিদেশি অনুদানের অর্থে তৈরি সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে চবে যাবে। তবে সরাসরি সরকার নয়। সরকারের নিযুক্ত একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তা তুলে দেওয়া যেতে পারে। এর জন্য জন্য আলাদা করে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

এই প্রস্তাব ঘিরেই বিরোধীদের আপত্তি সবচেয়ে বেশি। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের নীতির সমালোচনা করে এমন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করা হতে পারে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এতে নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এই বিল সংসদে এলে তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

'বন্দে মাতরম' নিয়ে নতুন আইন?
আরেকটি বিতর্কিত বিল হল Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026। এই সংশোধনী আইনে 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় পতাকার মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

Advertisement

আইনটি কার্যকর হলে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননা করা বা গানটি পরিবেশনে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।

বিরোধীদের অভিযোগ, দেশপ্রেমের সংজ্ঞা নির্ধারণে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘অবমাননা’ শব্দটির ব্যাখ্যা কী হবে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তর আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আয়কর (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
এর মাধ্যমে একটি নতুন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকার বলছে, এর লক্ষ্য ঋণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করা। তবে বিরোধীরা দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক নীতি নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬-
সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং কেন্দ্র-আদালত সম্পর্ক নিয়েও এই বিলে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-
দু'বছরের বেশি দেরিতে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।  

MSME উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাওনা টাকা দ্রুত মেটানো আবশ্যিক করার লক্ষ্যে আনা হচ্ছে। যদিও এই বিল নিয়ে তুলনামূলক কম বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। তবু ক্ষুদ্র শিল্পের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।  

POST A COMMENT
Advertisement