EXCLUSIVE: জঙ্গিদের আশ্রয়, চা-জলখাবার দিয়েছিল দুই কাশ্মীরি গাইড, পহেলগাঁও চার্জশিটে ফাঁস

কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার NIA-র চার্জশিট হাতে পেয়েছে আজ তক। এই এক্সক্লুসিভ চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। পারভেজ এবং ওয়াশির আহমেদ নামে দুই লোকাল গাইড ২৬ জনের জীবন বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু তাদের নীরবতা সন্ত্রাসবাদীদেরকে সমর্থন দেয় জঘন্য হামলার ঘটনোর।

Advertisement
জঙ্গিদের আশ্রয়, চা-জলখাবার দিয়েছিল দুই কাশ্মীরি গাইড, পহেলগাঁও চার্জশিটে ফাঁসপহেলগাঁও হামলা

কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার NIA-র চার্জশিট হাতে পেয়েছে আজ তক। এই এক্সক্লুসিভ চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। পারভেজ এবং ওয়াশির আহমেদ নামে দুই লোকাল গাইড ২৬ জনের জীবন বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু তাদের নীরবতা সন্ত্রাসবাদীদেরকে সমর্থন দেয় জঘন্য হামলার ঘটনোর।

চার্জশিট অনুযায়ী, হামলার একদিন আগে, অর্থাৎ ২১ এপ্রিল, ২০২৫-এ, ফয়সল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানি—এই তিনজন সন্ত্রাসবাদী পহেলগাঁও এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে আশ্রয় চেয়েছিল।

ঝুপড়িতে সন্ত্রাসবাদীদের আতিথেয়তা!
NIA-কে দেওয়া বিবৃতিতে ওয়াশির আহমেদ বলেছেন, তিনি তিনজন সন্ত্রাসবাদীকে দেখেছিলেন। তারা তাকে একটি নিরাপদ স্থানে যেতে বলেছিল। এরপর ওয়াশির তাদের একটি গাছের নীচে অপেক্ষা করতে বলে পারভেজের ঝুপড়িতে যায়। পারভেজ ও তার স্ত্রীকে মুখ খুলতে বারণ করে।

বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ওয়াশির তিনজন সন্ত্রাসবাদীকে পারভেজের ঝুপড়ি থেকে ইশারা করে ডেকেছিল। চার্জশিট অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদীদের কাছে ব্যাগ ভর্তি অস্ত্র ছিল। তারা উর্দুতে কথা বললেও তাদের উচ্চারণে পঞ্জাবির টান ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওয়াশির স্বীকার করে, সে তাদের চেহারা দেখে 'মুজাহিদ' অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিনতে পেরেছিল।

সন্ত্রাসবাদীরা অত্যন্ত ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার দাবি করে 'আল্লাহ'র নামে সাহায্যের জন্য মিনতি করেছিল। এরপর পারভেজ ও ওয়াশির তাদের চা ও জলখাবার দেয়। তদন্তে জানা গেছে, ওই তিন সন্ত্রাসবাদী প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঝুপড়িতে ছিল। এই সময়ে তাদের ও ওই দুই স্থানীয় ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হয়েছিল।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদীরা অমরনাথ যাত্রা, পহেলগাঁও নিরাপত্তা বাহিনীর শিবির, বাহিনীর গতিবিধি এবং এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করেছিল। NIA জানিয়েছে, পারভেজ ও ওয়াশির পুরোপুরি জানত তারা সন্ত্রাসবাদীদের সহায়তা করছে।

হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সন্ত্রাসবাদীদের দেখা গিয়েছিল
রাত ১০টার দিকে সন্ত্রাসবাদীরা ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় পারভেজ ও ওয়াশির তাদের জন্য ১০টি রুটি ও সবজি গুছিয়ে দেয়। তারা হলুদ, লঙ্কা, নুন, একটি হাঁড়ি এবং একটি হাতাও নিয়েছিল। আরও বলা  যে, সন্ত্রাসবাদীরা এর বিনিময়ে পারভেজকে ৩,০০০ টাকা দিয়েছিল।

Advertisement

তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার দিন অর্থাৎ ২২ এপ্রিল, পারভেজ ও ওয়াশির বৈসরণ উপত্যকার বাইরের বেড়ার উপর সেই একই তিন সন্ত্রাসবাদীকে বসে থাকতে দেখেছিল। সেদিন তারা দু'জন পর্যটকের সঙ্গে বৈসরণ উপত্যকায় গিয়েছিল। পর্যটকদের নিয়ে ফেরার পথে তারা সন্ত্রাসবাদীদের দেখতে পেয়ে সতর্ক হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই, তারা পহেলগাঁও পৌঁছলে উপরের বৈসরণ উপত্যকায় একটি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়। হামলার পর ওই দুই স্থানীয় বাসিন্দা চুপচাপ আত্মগোপন করে।

POST A COMMENT
Advertisement