দ্বিতীয় বর্ষা শুরু হল ভারতে।১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে গোটা দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এ কথা জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। এর ফলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বর্ষাকালের অবসান হল। একই সঙ্গে শুরু হল দক্ষিণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও এক দফা বৃষ্টির মরসুম। এর কারণ উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু।
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু কী
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টি নিয়ে এলেও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাব মূলত দক্ষিণ পূর্বে। বায়ুপ্রবাহের দিক থেকেই এই নামকরণ। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর বাতাসের গতিপথে পরিবর্তন আসে। তখন উত্তর পূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা বাতাসের প্রাধান্য বাড়ে। বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় এই বাতাস জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং দেশের দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ঘটায়।
ভারতের দ্বিতীয় বর্ষা বলে পরিচিত উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের বৃষ্টিই ওই সব অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় একটি অংশের জোগান দেয়। এই মরসুমে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় বৃষ্টিপাতের উপর প্রভাব ফেলে। কখনও কখনও এই ধরনের আবহাওয়া ব্যবস্থার জেরে অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু
তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্নাটক ও কেরলের কিছু অংশের জন্য উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় অংশই আসে এই মরসুমে। ফলে কৃষিকাজ, জলাধারগুলিতে জলের জোগান এবং পানীয় জলের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এই বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইক্কাল, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, রায়লসীমা, দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ কর্নাটক, কেরল এবং মাহে অঞ্চলে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে তফাত কোথায়
উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দুটি পরস্পর সম্পর্কিত হলেও মরসুমি বায়ুর এই দুই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য আলাদা। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা নিয়ে আসে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টি মূলত দক্ষিণ ভারতের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকে। তাই দেশের সর্বত্র সমান ভাবে প্রভাব না ফেললেও, দক্ষিণের কৃষি ও জলসম্পদের ক্ষেত্রে এই দ্বিতীয় বর্ষার গুরুত্ব অনেকখানি।