ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে মমতা আর সনিয়া।ইন্ডিয়া ব্লকের সাংবাদিক বৈঠক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রণংদেহি মেজাজ। পাশে বসে সনিয়া গান্ধী। মমতার বক্তব্য শেষ হতেই পিঠ চাপড়ে দিলেন। তারপরই সনিয়ার হাত শক্ত করে ধরলেন মমতা। এই মুহূর্তই বুঝিয়ে দিল ইন্ডিয়া ব্লকে মমতার অবস্থান! বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও বার্তা দিলেন,'আমরা একসঙ্গে আছি'।
একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতভেদ। যদিও নির্বাচন কমিশন কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মতানৈক্য থাকা স্বাভাবিক। তারপরই জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এ দিনও সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করলেন, বাংলায় ভোটচুরি করা হয়েছে।
মমতা বলেন,'বড় দুর্নীতি হয়েছে। এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। ভোটচুরি করে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বাংলায় জিতেছে বিজেপি। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম, সুপ্রিম কোর্টের দরজায় এসেছিলাম। ভ্যানিশ কুমার চোর, ডাকাত। ইভিএম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। রিগিং করেছিল গণনায়। ওঁকে পদত্যাগ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে'।
মমতা যোগ করেন,'আমাদের দাবি, ভ্যানিশ কুমারকে সরানো না হলে আন্দোলন অনেক দূরে যাবে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। ইভিএম কেন জ্বালালেন? সীমা খন্না কে? ৯২ লাখ লুঠ করেছে। ১৩ কোটির বেশি লুঠ করেছে ভারতে। সফটওয়্যার বানিয়ে লুঠ করেছে ভোট'। শেষে যোগ করলেন, 'আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমাদের ঘর থেকে বেরোতে দেয় না। আমরা লড়ব, জিতব। গণতন্ত্রের রক্ষা করব। প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও আমরা তৈরি'।
কী পরিকল্পনা ইন্ডি ব্লকের?
খাড়গে জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ, INDIA জোট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলি সামিল হবে।
২-৮ অক্টোবর: জেলায় জেলায় 'গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিল' আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ।
৬ অক্টোবর: নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করবেন সমস্ত বিরোধী সাংসদরা। আজই এই কর্মসূচি করার পরিকল্পনা ছিল। সমস্ত সাংসদকে ৬ অক্টোবর দিল্লিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় কর্মসূচি: অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইবেন বিরোধী নেতারা।
চতুর্থ কর্মসূচি: ৫টি বড় সভার আয়োজন করবে বিরোধীরা।