তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপমঙ্গলবার তুমুল বৃষ্টি দেখেছে কলকাতা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টির পাওয়ার প্লে স্পেলে জল থই থই অবস্থা হয় শহরের। এখনও কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু জায়গায় জমে রয়েছে জল। আর এমন পরিস্থিতিতেই আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে বর্ষার দাপট এখনই কমার কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উল্টে আগামী ১২ অগাস্ট উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যার জেরে দেশের পূর্ব ও উত্তর অংশে ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হচ্ছে না।
আবহাওয়ার লেটেস্ট আপডেট কী বলছে?
আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঊর্ধ্বমুখী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। বায়ুমণ্ডলের মধ্যস্তর পর্যন্ত এর প্রভাব রয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে মোটামুটি ১২ অগাস্ট নাগাদ একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নিম্নচাপ তৈরি হলে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বর্ষা। যার জেরে ১২ থেকে ১৪ অগাস্ট ওড়িশায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। যদিও শুধু ওড়িশা নয়, নিম্নচাপটি তৈরি হয়ে স্থলভাগের দিকে এগোলে মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশেও বর্ষা বাড়বে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও বেশ ভালই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
খেলা শুধু নিম্নচাপের নয়
এ দিকে দেশের উপর দিয়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এখনও সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে এটি স্বাভাবিক অবস্থানের তুলনায় দক্ষিণ দিকে সরে গিয়েছে।
আর অক্ষরেখার এহেন অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্ষার বৃষ্টি নিয়ে আসা সিস্টেমগুলির গতিপথ হিসেবে কাজ করে। এটি কোন অঞ্চলে বর্ষা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হবে এবং কোন এলাকায় বর্ষার প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে জানান হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর উপদ্বীপীয় ভারতের উপর দিয়ে একটি শিয়ার জোন অবস্থান করছে। এর ফলে দেশের বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা বাড়বে। সেই সঙ্গে আর্দ্রতার সঞ্চালন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা, শিয়ার জোন এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা নিম্নচাপ, এই তিনের মিলিত প্রভাবে আপাতত ভারতে বর্ষা সক্রিয় থাকবে। এল নিনো সেভাবে বর্ষাকে থামাতে পারবে না। এখনও বর্ষা নিজের অ্যাক্টিভিটি বজায় রাখবে।
এমন পরিস্থিতিতে আবহাওয়াবিদদের নজর রয়েছে বঙ্গোপসাগরের দিকে। সেখানে নিম্নচাপটি তৈরি হলে বর্ষা ফের নতুন করে শক্তি সঞ্চার হতে পারে। যার ফলে বাড়তে পারে বৃষ্টি। এখন দেখার এই নিম্নচাপ কতটা শক্তিশালী হয়।