সোনম ওয়াংচুকের স্কুলের কাজকর্ম বন্ধের নির্দেশবলিউডের সুপারহিট ছবি 'থ্রি ইডিয়টস'। এই সিনেমার শেষ দিকটা মোটের উপর সবারই মনে রয়েছে। সেখানে উপস্থিত একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন ফুংশুক ওয়াংড়ু ওরফে রাঞ্চোরদাস চাঁচড় ওরফে ব়্যাঞ্চো। অনেকেই মনে করেন, রাঞ্চোরদাস চাঁচড় চরিত্রটি আসলে সোনম ওয়াংচুকের অনুকরণে তৈরি। তাঁর লাদাখের স্কুলটিকেই ফিল্মে দেখানো হয়েছিল। যদিও বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। তবে সেই কথা আজ না হয় থাক। বরং আজকের বড় খবর হল, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের তৈরি করা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস (HIAL)-কে তাদের লেহ-র 'ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল'-এর সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে লাদাখ প্রশাসন।
আসলে HIAL-কে বরাদ্দ করা ১,০৭৬ কানাল (১৩৪.৫ একর) এবং এক মারলা (প্রায় ২৭০ বর্গফুট) জমির বরাদ্দ বাতিল করেছে প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতে মামলা হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর লেহ-র তহসিলদারের দফতর থেকে HIAL-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও এবং সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে এই নোটিস পাঠানো হয়।
নোটিসে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কাছে খবর এসেছে যে ফিয়াংয়ে অবস্থিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলে প্রয়োজনীয় সম্মতি, ছাড়পত্র বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্লাস এবং অন্যান্য কার্যকলাপ শুরু হয়েছে।
এছাড়াও নোটিসে গত ২২ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠির উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে স্কুলের প্রস্তাবিত পরিচালন কমিটির সদস্যদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) চেয়েছিলেন অ্যাংমো। স্কুলটি HIAL-এর শিক্ষা পরিকাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়।
HIAL-কে ঘিরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের বিচারাধীন।
নোটিসে তহসিলদার জানিয়েছেন, 'বিচারাধীন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে' হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না করা পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম চালানো কিংবা নতুন করে কোনও কার্যকলাপ শুরু করার বিষয়ে HIAL এবং অ্যাংমোকে কোনও পদক্ষেপ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি, বর্তমান পরিস্থিতি (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার উপর প্রভাব পড়তে পারে, এমন কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য HIAL এবং তাদের প্রতিনিধিদের সতর্কও করেছে প্রশাসন।
প্রশাসনের এই নির্দেশের ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের সমস্ত কাজ কার্যত বন্ধ থাকছে।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র উদ্যোগে আয়োজিত পরীক্ষায় অনিয়ম এবং NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন তিনি। পরে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারপরই ২৬ দিন ধরে চলা অনশন শেষ করেন ওয়াংচুক।