ISRO NVS-03 launch: আমেরিকার GPS-এর খেলা শেষ, মহাকাশে লঞ্চ ভারতের নতুন নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-03

উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট কক্ষপথে NVS-03-কে পৌঁছে দেয় GSLV রকেট। মিশনের সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড: ভি নারায়ণন। এই সাফল্যের জন্য তিনি বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানান।

Advertisement
আমেরিকার GPS-এর খেলা শেষ, মহাকাশে লঞ্চ ভারতের নতুন নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-03 NVS-03 স্যাটেলাইট লঞ্চ করল ইসরো (ছবি: ইসরো)
হাইলাইটস
  • উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট কক্ষপথে NVS-03-কে পৌঁছে দেয় GSLV রকেট
  • মিশনের সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড: ভি নারায়ণন
  • এই সাফল্যের জন্য তিনি বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানান

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার মুকুটে নতুন পালক। ISRO নতুন প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-03-এর সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল। GSLV-F18 রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিল এই উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা NavIC-কে আরও শক্তিশালী করতে এই উৎক্ষেপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এটা কাজ করবে GPS-র মতোই।

শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে রকেটটি লঞ্চ করা হয়।

উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট কক্ষপথে NVS-03-কে পৌঁছে দেয় GSLV রকেট। মিশনের সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড: ভি নারায়ণন। এই সাফল্যের জন্য তিনি বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানান।

ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা GSLV-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। এই রকেট ২,২৫০ কেজি ওজনের NVS-03 উপগ্রহটিকে Geosynchronous Transfer Orbit (GTO)-এ পৌঁছে দেয়।

NVS-03 হল ইসরোর সেকেন্ড জেনারেশন নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা NavIC-এর পরিষেবা চালু রাখা এবং আরও উন্নত করাই এর মূল লক্ষ্য।

মাথায় রাখতে হবে, ভারতের কাছে এই মিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নেভিগেশন পরিষেবা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কাজে লাগে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং সেনাবাহিনীর কাজেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই নিজের নেভিগেশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ভারত।

কেন NVS-03 ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?
আমেরিকার যেমন GPS রয়েছে, তেমনই  ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা হল NavIC। এর পুরো নাম Navigation with Indian Constellation। ভারতের তৈরি এই ব্যবস্থা দেশের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি সীমান্তের বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারে।

সড়কপথে যাতায়াত, সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, কৃষিকাজ এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কাজে NavIC ব্যবহার করা যায়।

আর সবথেকে বড় কথা, NVS-03 উপগ্রহটিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক রয়েছে। পাশাপাশি অন্য সংস্থার তৈরি অ্যাটমিক ক্লকও রয়েছে। নেভিগেশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এটি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Advertisement

এই উপগ্রহে আরও একটি নতুন সুবিধা থাকছে। এতদিন NavIC-এ L5 এবং S-band সিগন্যাল ব্যবহার করা হতো। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হবে L1 ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল। এর ফলে সাধারণ নেভিগেশন রিসিভার এবং বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে NavIC-এর ব্যবহার আরও সহজ হতে পারে। আরও বেশি ডিভাইসে এই পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

NVS-02-এর ব্যর্থতার পর কেন গুরুত্বপূর্ণ এই লঞ্চ?
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে NVS-02 উপগ্রহ লঞ্চ করেছিল ইসরো। GSLV-F15 রকেটের সাহায্যে উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট ট্রান্সফার কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিকে নির্দিষ্ট কার্যকরী কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

ওই স্যাটেলাইটের একটি বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এর ফলে একটি বিশেষ ভালভ ঠিকমতো কাজ করেনি। সেই কারণে উপগ্রহের Liquid Apogee Motor প্রয়োজনীয় অক্সিডাইজার পায়নি। ফলে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি NVS-02।

NVS-03-এর ক্ষেত্রে যাতে একই সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছে ইসরো।

তবে সফল উৎক্ষেপণই এই মিশনের শেষ ধাপ নয়। নির্দিষ্ট কার্যকরী কক্ষপথে পৌঁছতে উপগ্রহটির নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেমের সাহায্যে আরও কয়েকটি ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াতে হবে।

NVS-03-এর সফল উৎক্ষেপণের ফলে ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হল। বিদেশি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমল। 

 

POST A COMMENT
Advertisement