হায়দরাবাদে হানিট্র্যাপ হায়দরাবাদে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে হানি ট্র্যাপ চক্র চালানোর অভিযোগ। গ্রেফতার করা হল ২৩ বছরের এক যুবককে। যতদূর খবর, এই চক্রের ফাঁদে পড়েছেন অন্তত ৮২ জন পুরুষ। যাঁদের মধ্যে এক পুলিশ ইনস্পেক্টরও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই হানিট্র্যাপের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। (ছবি: প্রতীকী @ পিক্সেলস)
অভিযুক্তের নাম কে পবন কুমার। তিনি কুকটপল্লির বাসিন্দা। অভিযুক্ত পলিটেকনিক ডিপ্লোমা কোর্স কমপ্লিট করেননি। তিনিই বেকার ছিলেন। অভিযোগ, 'চন্দনা' নামে এক মহিলার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন তিনি। এই পরিচয়ে ইনস্টাগ্রামে ১৩টি এবং ফেসবুকে ১৪টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে ১,০০০-এরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। কথাবার্তা শুরু করেছেন। তারপর ধীরে ধীরে যৌন বিষয়ে কথা শুরু হতো। জানা যাচ্ছে, ৮২ জন ভুক্তভোগীকে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেছিল পবন। আর এটাই ছিল ফাঁদ।
চারমিনার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কিরণ খারে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই ছবি ও ভিডিওগুলি নিজের মোবাইলে সেভ করে রাখত। পরে সেগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার অথবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। এভাবেই ব্ল্যাকমেল করা হতো বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, গত কয়েক বছরে এইভাবে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি তুলেছেন পবন।
তার ফাঁদে পা দিয়েছেন চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, অধ্যাপক, পুলিশ এবং গিগ কর্মী। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন অন্য রাজ্যের বাসিন্দা এবং ন’জন বিদেশের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যদিও ২২ বছর বয়সী এক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সইদাবাদ থানার পুলিশ পবনকে গ্রেফতার করে। ওই পড়ুয়ার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইনস্পেক্টরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে খাইরাতাবাদ থানায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।
পবনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার আরও তদন্ত চলছে। এরপর দেখার আরও কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না।