Hilsa Pomfret Fish: বাঙালির পাত থেকে ধীরে ধীরে উধাও হচ্ছে ইলিশ-পমফ্রেট, কেন জানেন?

দেশের ২টি সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছ, ইলিশ এবং পমফ্রেট ক্রমশই বাঙালির পাত থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। কেন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে মাছগুলি? রইল বিস্তারিত...

Advertisement
বাঙালির পাত থেকে ধীরে ধীরে উধাও হচ্ছে ইলিশ-পমফ্রেট, কেন জানেন? ইলিশ পমফ্রেটের অস্তিত্ব সঙ্কটে
হাইলাইটস
  • ইলিশ এবং পমফ্রেট অস্তিত্ব সঙ্কটে
  • বাঙালির পাত থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ২ মাছ
  • কেন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে মাছগুলি?

মুম্বইয়ের মাছের বাজারে একটা সময়ে পমফ্রেট ছিল ঐশ্বর্য ও গর্বের প্রতীক। রুপোলি, মোটা, তাজা এই মাছ মহারাষ্ট্রীয় থালি বা পারসিদের পাতে মাস্ট। আবার বাংলায় বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ইলিশ না খেলে বাঙালির ভাত হজম হয় না। কবিতা, রাজনীতির সঙ্গেই অতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ইলিশ। কিন্তু এখন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ২ মাছের অস্তিত্ব সঙ্কটে!শুধু পমফ্রেট এবং ইলিশ নয়, অস্তিত্বের সঙ্কট তাদের জলজ পরিবেশেরও।

ভারতে মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যৎ কী?
ভারতের মোট সামুগ্রিক মাছ উৎপাদন ২০২৪ সালে প্রায় ৩.৪৭ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে যা ২০২৩ সালের ৩.৫৩ মিলিয়ন টনের তুলনায় অনেক কম। Central Marine Fisheries Research Institute (CMFRI)-এর মতে, এই পতনের প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, যেমন একাধিক ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

ভারতে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মাছ ধরার উপর জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় ২৫ কোটি মানুষ উপকূল থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন। ফলে এই সঙ্কট শুধু পরিবেশগত নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তার জরুরি সমস্যা এবং আরও বড় উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ। 

অস্তিত্বের সঙ্কটে পমফ্রেট ও ইলিশ
মহারাষ্ট্রের রাজ্য মাছ সিলভার পমফ্রেটের প্রজাতি বদলে যাচ্ছে সমুদ্র উষ্ণায়নের জেরে। ৭-এর দশকে বছরে প্রায় ১২০০ টন পমফ্রেট ধরা পড়ত এবং সাধারণত মাছের ওজন থাকত ৩০০-৪০০ গ্রাম। কিন্তু ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪০ টনে। শুধু তাই নয়, মাছের গড় ওজনও ৮-এর দশকের শুরুতে ৩৫০ গ্রাম থেকে ২০১০ সালে নেমে এসেছে মাত্র ১৫০ গ্রামে। 

সমদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সময়ের আগেই পাকা মাছ উঠে আসছে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ড. বিনয় দেশমুখ United Nations Development Programme-কে জানান, এই পরিবর্তন প্রজাতিটির জৈবিক গঠনে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। মুম্বইয়ের মাছ বিক্রেতা নয়না পাটিল রয়টার্স-কে জানান, তাপপ্রবাহের সময় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পমফ্রেটের দাম তিনগুণ বেড়ে কেজি প্রতি দেড় হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। 

Advertisement

এই সমস্যা শুধু মহারাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ তেমনটা নয়। বাংলার কোটি মানুষের কাছে ইলিশ শুধু খাবার নয়, এক আবেগ। আর জলবায়ু পরিবর্তন সেই ইলিশের অস্তিত্বকেও সঙ্কটের মুখে ফেলেছে। 

গত দুই দশকে ইলিশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে উৎপাদন প্রায় ২০% কমে গিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীতে পলি জমার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভারতের ভারতের উত্তর-পূর্ব উপকূলে সমুদ্রের তাপমাত্রা ৪°সেলসিয়াস বাড়লে সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। আর ইলিশের মতো পরিযায়ী মাছ সবচেয়ে বেশি অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগে। 

ভারতের সমুদ্র এত দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে কেন?
১৯৫০ সাল থেকে ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.১২° সেলসিয়াস হারে বেড়েছে এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত তা প্রতি দশকে ০.১৭° সেলসিয়াস হারে বাড়তে পারে বলে অনুমান। 

২০২৩–২৪ সালে আরব সাগরে রেকর্ড ০.৮৮°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে, যার ফলে প্রায় পুরো বছর জুড়ে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ চলেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত মহাসাগরে বছরে ২২০–২৫০ দিন পর্যন্ত সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। গত ছয় দশকে পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ প্রায় ২০% কমেছে।

একটা সময়ে কেরলম ও কর্নাটকের উপকূলে প্রচুর পরিমাণ সার্ডিন মাছ পাওয়া যেত। সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার কারণে তারা ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের দিকে সরে গিয়েছে। 

সহজভাবে বললে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলাশয়ের উষ্ণতা পুরো সামুদ্রিক পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। আবার কিছু মাছ তাদের চেনা পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। 

ভারত কি এই সঙ্কট মোকাবিলায় সক্ষম?
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট ন্যূনতম আকারের নীচে থাকা ৫৪টি প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সিলভার পমফ্রেটের ক্ষেত্রে আইনত ন্যূনতম ধরার মাপ নির্ধারণ করা হয় ১৩৫–১৪০ মিলিমিটার। এটি হয়তো মাছের প্রজাতি রক্ষা ও তাদের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বজায় রাখার একটি উপায় হতে পারে।

তবে শুধু নিয়মকানুন দিয়ে সমুদ্র ঠান্ডা করা সম্ভব নয়। যতদিন না কার্বন নির্গমন কমানো যাচ্ছে, ততদিন সমুদ্র উষ্ণ হতেই থাকবে। আর সেই সঙ্গে কোটি কোটি ভারতীয়ের পাতে হয় মাছের আকৃতি ছোট হতে থাকবে, একটা সময়ে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement