জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কী বললেন দীপকে?চিফ ইলেকশন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের আন্দোলনে নামার প্ল্যানিং জানিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে প্রতিবাদ সভার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তারপরও সেখানে মুম্বইতে হাজার হাজার মানুষ CEC-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন। এরপরই CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কয়েক মাস আগেই নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যন্তর মন্তরে এক মাস ধরে ব্যাপক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল CJP। সেই আন্দোলনের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে দাবি CJP-র। এবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি। সেটা না হলে আবার জোরদার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে তারা।
দিল্লি পুলিশকে '২০ জুলাই'-এর কথা মনে করালেন দীপকে
দীপকে টুইট করে লিখেছেন, 'জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা দেশ থেকে ককরোচরা দিল্লিতে আসবে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'দিল্লি পুলিশ যদি আমাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তাহলে তারা যেখানে আমাদের থামাবে, সেটাই আমাদের যন্তর মন্তর হয়ে যাবে।'
তবে দীপকে স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের আন্দোলনে আশন্তি থাকবে না। শান্তিপূর্ণ হবে। ২০ জুলাই যে ধরনের 'নির্মমতা' দেখা গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি না করার জন্য দিল্লি পুলিশ এবং সরকারকে সতর্ক করেছেন তিনি।
দীপকে বলেন, 'আমরা মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই হাঁটব। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারকে সরকার এবং দিল্লি পুলিশ সম্মান করবে, নাকি ২০ জুলাই যে নির্মমতা আমরা দেখেছিলাম, তার পুনরাবৃত্তি করবে—সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত।'
এই আন্দোলনকে 'গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই' বলে উল্লেখ করেন দীপকে। সেই সঙ্গে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ পক্ষে থাকা নাগরিকদের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ২০ জুলাইয়ের প্রসঙ্গ?
২০ জুলাই দেশের রাজধানীতে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করতে গিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একাধিক ছাত্র-প্রতিবাদকারী এবং দিল্লি পুলিশ, RAF ও CRPF-এর বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।
পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে কয়েকজন প্রতিবাদকারীর শরীরে পেলেটের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। RAF পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে পেলেট ছুড়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
অগাস্টে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হিংসা এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শীর্ষ আদালত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
মুম্বইয়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত
মুম্বইতে CJP-এর প্রতিবাদে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ জমায়েত করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবাদে প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং গায়ক ও সুরকার বিশাল দাদলানিও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাইয়ের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের মতোই মুম্বইয়ের প্রতিবাদেও সৃজনশীলতার ছাপ দেখা যায়।
প্রতিবাদস্থলে 'Gyanu must go', 'Democracy saaf'-এর মতো প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বলিউডের জনপ্রিয় গানেও দেওয়া হয় Gen Z-এর ছোঁয়া। গাওয়া হয়—'Vote churaya mera, kisne o sanam? Gyanu ne'।
মঞ্চে উঠে দীপকে হুঁশিয়ারি দেন, CEC পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে Gen Z মিছিল শুরু হবে। তিনি বলেন, 'Gyanu পদত্যাগ না করলে Nandu-কে পদত্যাগ করতে হবে, কারণ আসলে তিনিই নির্বাচন কারচুপি করছেন।'