প্রাক্তন CJI চন্দ্রচূড় রাশিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ওশ্চাদব্যাঙ্ক রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, সেই মামলায় রাশিয়ার হয়ে সালিশকারক বা নিরপেক্ষ আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। Global Arbitration Review-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে বার অ্য়ান্ড বেঞ্চ।
মামলাটি মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ওশ্চাদব্যাঙ্কের সম্পদ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষতি নিয়ে। ব্যাঙ্কটির দাবি, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে তাদের বহু সম্পদ ও ব্যবসা হারিয়েছে।
এই ক্ষতির জন্য রাশিয়ার কাছে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ওশ্চাদব্যাঙ্ক। ১৯৯৮ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই মামলা চলছে।
তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল
এই মামলার শুনানি হবে তিন সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কোস্টা রিকার প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সালিশকারক দিয়ালা জিমেনেজ। রাশিয়া ও ওশ্চাদব্যাঙ্ক যৌথভাবে তাঁকে বেছে নিয়েছে।
ওশ্চাদব্যাঙ্কের তরফে তৃতীয় সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন গ্রিসের সালিশকারক এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক স্তাভ্রোস ব্রেকৌলাকিস। আর রাশিয়ার তরফে সালিশকারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন CJI ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।
এর আগে রাশিয়ার প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন চন্দ্রচূড়
এর আগে আরও দুটি আন্তর্জাতিক মামলায় রাশিয়ার হয়ে সালিশকারক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন চন্দ্রচূড়। সেই মামলাগুলির মধ্যে একটি ছিল গ্যাস ও তেল সংস্থা উইন্টারশেল ডিয়াকে নিয়ে এবং অন্যটি ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা ইউক্রেনেগোকে নিয়ে।
তবে সেই সময় তিনি প্রস্তাবগুলি গ্রহণ করেননি। একটি মামলায় তাঁকে নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর রাশিয়ার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে সেই যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ করে ওই দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি।
চার অঞ্চলে ক্ষতির দাবি
ওশ্চাদব্যাঙ্কের দাবি, রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে তাদের ব্যাঙ্কিং সম্পদ ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকাগুলিতে ব্যাঙ্কের পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
এই মামলা ক্রিমিয়া নিয়ে ওশ্চাদব্যাঙ্কের আগের মামলার থেকে আলাদা। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেখানে ব্যাঙ্কের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগে মামলা করেছিল ওশ্চাদব্যাঙ্ক। সেই মামলায় প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সুদ যোগ হওয়ায় সেই অর্থ আরও বেড়ে যায়।
ওশ্চাদব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তাদের হওয়া সমস্ত ক্ষতির হিসাব রাখা হচ্ছে। নতুন মামলার মাধ্যমে সেই ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করছে তারা।