El Nino: শীতে অতিশক্তিশালী এল নিনো, বর্ষা বিদায়ের পর এবার কেমন ওয়েদার?

অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্য ভারত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে।

Advertisement
শীতে অতিশক্তিশালী এল নিনো, বর্ষা বিদায়ের পর এবার কেমন ওয়েদার? সুপার এল নিনো
হাইলাইটস
  • ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো।
  • আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রায় প্রভাব।

বিদায় নিয়েছে বর্ষা। স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তার উপর বছরের শেষের দিকে শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা। এই দুইয়ের জেরে শীতের মুখে ভারতে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহবিদদের আশঙ্কা, ডিসেম্বরের মধ্যে এল নিনো এমন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা অতীতের নজিরগুলিকেও ছাপিয়ে যাবে। এবার কি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকবে শীত? বর্ষার ঘাটতি কি রবি শস্যের উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে? আর শক্তিশালী এল নিনো কি ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে?

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায় নেওয়ার পর এখন নজর আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার দিকে। উদ্বেগ শুধু তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি, পানীয় জলের জোগান, বিদ্যুতের চাহিদা এবং জনস্বাস্থ্যের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা অন্তত ৮৩ শতাংশ। 

ভারতে শীত কেমন হতে পারে

বছরের শেষ দিকে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকায় এবারের শীত এবং ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম, দুটিই অস্বাভাবিক উষ্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। যদিও দেশের কিছু অঞ্চলে এর বিপরীত প্রভাবও দেখা যেতে পারে। নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের গোড়ায় এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছতে পারে। শীতের বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা। পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাতও কম হবে।

বাংলায় কি প্রভাব

এল নিনোর প্রভাব বাংলায় ততটা পড়বে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ থাকে। তার ফলে শীতকাল এখানে যেমনটা পড়ে তেমনই থাকবে। আলাদা করে কোনও ফারাক হবে না।   

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে পড়বে। কৃষি উৎপাদন কমার আশঙ্কা। কমতে পারে রবি শস্যের ফলন। তার ফলে ধাক্কা খাবে গ্রামীণ আয়। কমবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।

Advertisement

কী এই সুপার এল নিনো?

এল নিনো বুঝতে হলে প্রথমে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের সম্পর্ক বোঝা প্রয়োজন। সাধারণত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে বাণিজ্য বায়ু উষ্ণ জলকে পশ্চিম দিকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের কাছে সমুদ্রের গভীর থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জল উপরে উঠে আসে। বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে উষ্ণ জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়। এই ঘটনাকেই বলা হয় এল নিনো।
 

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement