দিল্লির CR পার্কে দুর্গাপুজো মণ্ডপে পুলিশ-CRPF, বাঙালি সম্প্রদায়কে হেনস্থার অভিযোগ

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দফতরকে ট্যাগ করে এক্স-এ সৌরভ লেখেন, দিল্লির বাঙালি সম্প্রদায় অত্যন্ত ভদ্র ও শিক্ষিত বলে পরিচিত। তা সত্ত্বেও তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement
দিল্লির CR পার্কে দুর্গাপুজো মণ্ডপে পুলিশ-CRPF, বাঙালি সম্প্রদায়কে হেনস্থার অভিযোগদিল্লির সিআর পার্কের মূর্তি (ITG)
হাইলাইটস
  • ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হয়
  • দিল্লির শাসকদল বিজেপি এবং দিল্লি পুলিশকে নিশানা করে আম আদমি পার্টি

দুর্গাপুজোর উৎসবের মধ্যেই দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে (CR Park) বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বাইরে প্রচুর সংখ্যায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা CRPF-এর জওয়ান মোতায়েন। অভিযোগ, পুজোর আনন্দে বাধা দেওয়া, আয়োজকদের হেনস্থা করা এবং মণ্ডপ খালি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

 ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির (AAP) অভিযোগ, দিল্লিতে বাঙালি সম্প্রদায়ের পুজো উদযাপনে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর করতেই পদক্ষেপ।

কী ঘটেছিল চিত্তরঞ্জন পার্কে?

লেখক-সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করার পরেই বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে দক্ষিণ দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের বি-ব্লক দুর্গাপুজো মণ্ডপের বাইরে প্রচুর পুলিশ ও CRPF জওয়ানকে দেখা যায়।

চিত্তরঞ্জন পার্কের বাসিন্দা অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধরের বক্তব্য উল্লেখ করে পরঞ্জয় দাবি করেন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ লাঠি হাতে প্রায় ২০ জন CRPF জওয়ান মণ্ডপের দিকে এগিয়ে আসেন। সেই সময় মণ্ডপে বহু মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে পুজোর আনন্দে সামিল হয়েছিলেন। পুজো কমিটির সদস্যরা ওই পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেন এবং জওয়ানদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ।

পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা জানান, জওয়ানরা মণ্ডপের মূল ফটকের বাইরে থাকার সময় তিনি ভিডিয়োটি করেন। তবে প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে পুলিশ ও CRPF জওয়ানদের মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, তাঁরা মণ্ডপের ভিতরে ঢুকেছিলেন কি না বা মণ্ডপ খালি করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা ওই ফুটেজ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এই ঘটনার পর আরও কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী পুলিশি উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের পোস্টে দাবি করা হয়, রাত ১১টার দিকে সাইরেন বাজিয়ে প্রচুর পুলিশ ও আধাসেনা CR Park-এর রাস্তায় টহল দেয় এবং গোটা এলাকা খালি করে দেওয়া হয়। ওই ব্যবহারকারীর দাবি, পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন, রাত ১১টা পর্যন্তই অনুমতি রয়েছে।

Advertisement

বাঙালি সম্প্রদায়কে হেনস্থার অভিযোগ AAP-এর

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হয়। দিল্লির শাসকদল বিজেপি এবং দিল্লি পুলিশকে নিশানা করে আম আদমি পার্টি। দলের দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, বাঙালি সম্প্রদায় এবং চিত্তরঞ্জন পার্কের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নজিরবিহীনভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দফতরকে ট্যাগ করে এক্স-এ সৌরভ লেখেন, দিল্লির বাঙালি সম্প্রদায় অত্যন্ত ভদ্র ও শিক্ষিত বলে পরিচিত। তা সত্ত্বেও তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সৌরভের প্রশ্ন, দিল্লি সরকার যখন ২৪ ঘণ্টা দোকান ও ব্যবসা চালু রাখার কথা বলছে এবং বহু রামলীলা অনুষ্ঠান মধ্যরাতের পরেও চলতে দেওয়া হচ্ছে, তখন বাঙালিদের দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে কেন আলাদা আচরণ করা হবে?

গ্রেটার কৈলাশ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ জোর করে বি-ব্লকের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঢুকেছিল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এখানেই থামেননি AAP নেতা। তাঁর দাবি, বিজেপি পরিচালিত দিল্লি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছতে পারত, যেখানে পদপিষ্ট হওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। পশ্চিমবঙ্গের চোরবাগান এলাকার সাম্প্রতিক দুর্গাপুজোর মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার দিল্লি পুলিশের

বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দিল্লি পুলিশ। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP)-এর সরকারি এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, চিত্তরঞ্জন পার্কের দুর্গাপুজো মণ্ডপ নিয়ে ছড়ানো সাম্প্রতিক অভিযোগ সঠিক নয়। পুজোর উদযাপনে বাধা দেওয়া পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম কার্যকর করতেই হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল। আগের বৈঠকগুলিতে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া সত্ত্বেও আয়োজকরা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও উচ্চ শব্দে গান বাজাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

দিল্লি পুলিশের তরফে আরও বলা হয়েছে, সকলের নিরাপদে উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে তারা দায়বদ্ধ। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement