অরুণাচল নিয়ে কী প্ল্যান চিনের? প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে চিনের সামরিক সুবিধা শুধু সীমান্তের কাছাকাছি সেনা মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দ্রুত অতিরিক্ত সেনা পাঠানো, দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া এবং তিব্বত মালভূমি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পরিকাঠামোকে কাজে লাগানোর ক্ষমতাও চিনের বড় শক্তি। সীমান্তে চিনের বর্তমান সামরিক অবস্থান থেকে এখনই বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা করা না হলেও, ভারতকে চাপে রাখতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি পরীক্ষা করতে এবং সীমান্ত পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলির সীমাবদ্ধতা বুঝতে একাধিক স্তরের সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)।
অরুণাচল প্রদেশ এখন নয়াদিল্লির কাছে কৌশলগত উদ্বেগের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। সীমান্তের বিভিন্ন অংশে নতুন করে চিনা তৎপরতা এবং দুই দেশের সেনার মুখোমুখি হওয়ার খবর পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাকেই তুলে ধরছে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অরুণাচলের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কঠিন পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সীমান্তবর্তী বসতিগুলির বিস্তৃত অবস্থান সেনা চলাচল ও রসদ সরবরাহকে জটিল করে তোলে। এর মধ্যে তিব্বতে চিনের সামরিক পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভারতের নিরাপত্তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
চিনের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড
চিনের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড (CAB)। এটি চিনা সেনার প্রধান কৌশলগত লড়াইয়ের ইউনিট। এই ব্রিগেডের মধ্যে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি কামান, সাঁজোয়া যান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি ও গোয়েন্দা ইউনিট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে।
সামরিক অভিযানের প্রয়োজন অনুযায়ী এই ব্রিগেডগুলিকে লাইট, মিডিয়াম এবং হেভি- এই তিন ধরনের কাঠামোয় সাজানো হয়। একটি সাধারণ ব্রিগেডে আনুমানিক ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ সেনা থাকতে পারে। এই মডিউলার কাঠামোর ফলে নির্দিষ্ট অভিযান এবং ভৌগোলিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সেনা ও অস্ত্রের বিন্যাস বদলাতে পারে চিন। হিমালয়ের মতো উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
তিন স্তরে সেনা মোতায়েনের কৌশল চিনের
পূর্ব সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিনের সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। সীমান্তরক্ষী ইউনিটগুলি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকে। অন্যদিকে, তিব্বত মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের অধীন সেনা ইউনিটগুলি প্রয়োজনের সময় অতিরিক্ত সামরিক শক্তি জোগানোর জন্য প্রস্তুত থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীন অন্যান্য সেনা ইউনিটকেও পর্যায়ক্রমে বা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে পাঠানো সম্ভব।
এই ব্যবস্থার ফলে সীমান্তের কাছে সব সেনাকে স্থায়ীভাবে মোতায়েন না রেখেও চাপ বজায় রাখতে পারে চিন। আবার প্রয়োজন হলে দ্রুত অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও থাকে।
তিব্বত মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের সঙ্গে যুক্ত ৫২, ৫৩ এবং ৫৪ নম্বর কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড চিনের পূর্ব সীমান্তের সামরিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নে উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ব্রিগেডগুলির সঙ্গে যথাক্রমে ইয়াদং-শিগাতসে, নিংচি-বাই এবং লাসা এলাকার যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়াও ৭৭তম গ্রুপ আর্মির অধীন কিছু সেনা ইউনিট অতিরিক্ত সামরিক শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো হতে পারে। তবে অতীতে প্রকাশিত রিপোর্টে এই ব্রিগেডগুলির অবস্থানের উল্লেখ থাকলেও, সেগুলিকে বর্তমান সেনা মোতায়েনের নিশ্চিত ছবি হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ভারত-চিন সীমান্তে কত সেনা মোতায়েন রয়েছে?
ভারতীয় সেনার ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে চিনের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ওই মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর সীমান্তে সেনা মোতায়েন কিছুটা কমিয়েছিল চিন। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ১০টি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেডের সমপরিমাণ সেনা এবং প্রচলিত প্রশিক্ষণ এলাকায় আরও ১০টি ব্রিগেডের সমপরিমাণ বাহিনী মোতায়েন ছিল।
এখানে উল্লেখযোগ্য, এই পরিসংখ্যান গোটা ভারত-চিন সীমান্তের জন্য প্রযোজ্য। শুধুমাত্র অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে এই সেনা মোতায়েন রয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। একই রিপোর্টে ভারতীয় সেনার প্রস্তুতিকেও শক্তিশালী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন সেক্টরে ভারতীয় সেনা যথাযথভাবে মোতায়েন রয়েছে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত।
তবে চিনের সেনা মোতায়েন কমে যাওয়াকে সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিব্বত জুড়ে চিনের বিস্তৃত সড়ক, রেলপথ এবং বিমান পরিকাঠামো তাদের সেনাকে রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়। সামরিক অভিযানের গভীরে থাকা ঘাঁটি থেকে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় কত দ্রুত সেনা, অস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে, তা সংঘাতের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও প্রকৃত সময় নির্ভর করবে ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযানের পরিস্থিতির উপর।
পাল্লা দিচ্ছে ভারতও
চিনের এই সামরিক প্রস্তুতির মোকাবিলায় ভারতও সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সেনা মোতায়েনের উপর জোর দিয়েছে। স্থানীয় ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে ভারতীয় সেনার অভিজ্ঞতা এবং সীমান্তে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি তাদের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি বায়ুসেনার সহায়তা এবং উন্নত রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্ভাব্য ছোটখাটো সংঘর্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে শুধু অস্ত্র বা সেনার সংখ্যা বাড়ানো নয়, প্রতিটি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখাও জরুরি।
অরুণাচলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সীমান্তে দুই দেশের সেনার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাসিং এলাকার উত্তেজনার আবহে ওয়াচা-দামাই এলাকায় দুই দেশের সিনিয়র সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। পূর্ব সেক্টরে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের বৈঠক স্থানীয় বিবাদ মেটাতে এবং ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় সংঘাত তৈরি হওয়া আটকাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দুই দেশের মূল সীমান্ত বিবাদের সমাধান সম্ভব নয়।
ভারতের কাছে চিনের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয় শুধু নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে কত সেনা রয়েছে, তা নয়। বরং পরিকাঠামো, সেনার কাঠামো এবং দ্রুত সেনা সমাবেশের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চিন কতটা দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক চাপ বজায় রাখতে পারে, সেটাই বড় প্রশ্ন। সীমান্তে বারবার সেনার তৎপরতা, স্থানীয় সংঘাত এবং স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টা ভারতের কাছে নিয়মিত নজরদারি ও উপযুক্ত পাল্টা প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বাড়াচ্ছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য রয়েছে। সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সেনার দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে রসদ সরবরাহের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। চিনের একাধিক স্তরের সেনা কাঠামো পূর্ব সীমান্তে চাপ বজায় রাখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, সীমান্তে ভারতের সেনার উপস্থিতি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামরিক প্রস্তুতি সংঘাত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
অরুণাচল প্রদেশে আপাতত গালওয়ানের মতো বড় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কিন্তু সীমান্তে দুই দেশের সামরিক প্রতিযোগিতা যে শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট। চিনের প্রতিটি পদক্ষেপের মোকাবিলায় প্রস্তুত, শক্তিশালী এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম সেনাবাহিনী বজায় রাখাই ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
অরুণাচল সীমান্তের কাছে চিনের নতুন সামরিক বিমানঘাঁটি
চিনের সামরিক প্রস্তুতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তিব্বতের দামশুং এলাকায় বিমান পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ। অরুণাচল-তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ৪,৩০০ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫.২ কিলোমিটার।
উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বিমান চালানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, উচ্চতার কারণে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে বিমানের উড়ান ও অবতরণের ক্ষমতা এবং বহনযোগ্য সরঞ্জামের পরিমাণের উপর প্রভাব পড়ে। তুলনায়, লাসা গংগার বিমানবন্দর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং সেখানকার রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার।
দামশুংয়ে নির্মাণকাজের পরিমাণ দেখে অনুমান করা হচ্ছে, এই পরিকাঠামো বড় আকারের সামরিক বিমান চলাচলে সহায়তা করতে পারে। তবে সেখানে কোন নির্দিষ্ট সামরিক ইউনিট মোতায়েন রয়েছে এবং স্থায়ীভাবে কত সেনা বা বিমান রাখা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবহণ বিমান এবং এয়ারবর্ন ফোর্স-সহ অতিরিক্ত বিমানবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও সেখানে স্থায়ীভাবে একটি নির্দিষ্ট এয়ারবর্ন ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
লাসার আশপাশের সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে দামশুংয়ের যোগাযোগও এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এর ফলে সেনা, সরঞ্জাম এবং রসদ তুলনামূলক দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো সাহায্য করতে পারে।
দামশুং এখন আর শুধুমাত্র ভবিষ্যতের কোনও সামরিক পরিকাঠামো প্রকল্প নয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, জুন মাসে সেখানে চিনের চারটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটার ছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সামরিক বিমান চলাচলের কাজে ইতিমধ্যেই এই পরিকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিব্বত জুড়ে চিনের একাধিক বিমানঘাঁটির সম্প্রসারণের প্রেক্ষিতে এই চারটি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (PLAAF) সামরিক অভিযান পরিচালনার নমনীয়তা বাড়তে পারে। পাশাপাশি, কয়েকটি পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত বিমানঘাঁটির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চিনের স্থলবাহিনীর কাঠামো, তিব্বত জুড়ে সামরিক পরিকাঠামো এবং ক্রমবর্ধমান বিমান শক্তি- এই তিনের সমন্বয়ে পূর্ব সীমান্তে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সক্ষমতা বাড়ছে। ভারতের কাছে এর প্রভাব শুধু অরুণাচল প্রদেশের বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হিমালয়ের মতো বিশ্বের অন্যতম দুর্গম সামরিক এলাকায় দুই দেশ কত দ্রুত সেনা সমাবেশ করতে পারে, কত দিন ধরে তাদের রসদ সরবরাহ বজায় রাখতে পারে এবং কতটা কার্যকরভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে, ভবিষ্যতে পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটাই তার উপর নির্ভর করবে।