বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছেন এক মত্স্যজীবী- পিটিআই ফাইল ছবিনভেম্বরের শুরুতেই ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের তোড়জোড় চলছে। ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর তাণ্ডবের পরে এ বার বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবারেই ওই সিস্টেম তৈরি হয়ে গিয়েছে। সিস্টেমটি আরও শক্তি বাড়িয়ে অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোচ্ছে।
ভারতীয় হাওয়া অফিস (IMD) জানাচ্ছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবারের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান সাগর এলাকায় নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তী দু'দিন পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলের মধ্যে নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে হাওয়া অফিস।
IMD অরোরা, FGN, FCN, NCMRWF Graphcast, Fourcast Net, Pangu Weather-র মতো একাধিক AI মডেলও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির বিষয়ে জোরাল ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওই মডেলগুলির পূর্বাভাস, ৩১ অক্টোবর অর্থাত্ শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে যাবে ও তা অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোবে। তবে GFS গ্রুপ এবং ECMWF-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। ECAI-এর পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নিম্নচাপটি শক্তি না বাড়িয়ে নিম্নচাপ হিসেবেই এগিয়ে যাবে। এর ফলে ওড়িশায় একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ওডিশার দক্ষিণের জেলাগুলিতে আগামী ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ নভেম্বর, রবিবার রায়গড়া, কোরাপুট, মালকানগিরি, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলার দু-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কী প্রভাব পড়তে পারে?
আলিপুরের হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ছত্তীশগড়ের ওপরে একটি গভীর নিম্নচাপ রয়েছে। যার প্রভাবে আগামী দু'দিন অর্থাত্ আজ ও শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতেরও সতর্কতাও থাকছে। আজ বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তারপর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত বেশ কিছুটা কমবে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী দু'দিন বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। ১ তারিখ থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করবে। তবে আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ নিয়ে আইএমডি কলকাতা আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের কথায়, 'সেটা আমাদের নজরে রয়েছে। কিন্তু এটাও বলা হচ্ছে, ওই নিম্নচাপ অন্ধ্র উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত নিম্নচাপটির যা গতিবিধি, তাতে আমাদের রাজ্যে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।'
পূর্ব উপকূল রেলে প্রচুর ট্রেন বাতিল
প্রথমে অর্ণবের তাণ্ডব, তারপর ফের একটি নিম্নচাপের জেরে পূর্ব-উপকূলীয় রেলওয়ে একডজনের বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনের রুট কাটছাঁট করা হচ্ছে বা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব এবং নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে ওডিশায়। ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের (ECoR) আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিশাখাপত্তনম-ভুবনেশ্বর বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, জুনাগড় রোড-ভুবনেশ্বর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস এবং পুরী-গুনুপুর এক্সপ্রেস-সহ প্রায় ১৬ থেকে ১৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
আজ অর্থাত্ ৩০ অক্টোবরও বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন। তালিকায় রয়েছে গুনুপুর-রাউরকেলা রাজ্যরানি এক্সপ্রেস, জুনাগড় রোড-ভুবনেশ্বর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, গুনুপুর-পুরী এক্সপ্রেস এবং ব্রহ্মপুর-বিশাখাপত্তনম এক্সপ্রেস। ৩১ অক্টোবর বাতিল থাকবে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস-ভুবনেশ্বর নিউ কোনার্ক এক্সপ্রেস। আজ একাধিক ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।