বিদ্রোহী TMC সাংসদদের NCPI-কে স্বীকৃতি দেননি স্পিকার? দাবি-পাল্টা দাবি

সর্বদল বৈঠক ঘিরে দিল্লিতে মহানাটক। সর্বদলীয় বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। তবে কিছু সময় পরেই ফের বৈঠকে যোগ দেন তাঁরা।

Advertisement
বিদ্রোহী TMC সাংসদদের NCPI-কে স্বীকৃতি দেননি স্পিকার? দাবি-পাল্টা দাবিস্পিকার স্বীকৃতি দেয়নি, তবু কেন সর্বদলীয় বৈঠকে বিদ্রোহী TMC সাংসদরা, প্রশ্ন মহুয়ার
হাইলাইটস
  • বাদল অধিবেশন শুরুর আগের দিন, রবিবার সংসদে মহানাটক।
  • চিরচারিত প্রথা অনুযায়ী, আজ সর্বদল বৈঠক ডেকেছিল সরকার।
  • বৈঠকে NCPI-এর যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সর্বদলীয় বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা।

বাদল অধিবেশন শুরুর আগের দিন, রবিবার সংসদে মহানাটক। চিরচারিত প্রথা অনুযায়ী, আজ সর্বদল বৈঠক ডেকেছিল সরকার। কিন্তু বৈঠকে রীতিমতো নাটকীয় কাণ্ড ঘটালেন তৃণমূল সাংসদ-সহ বিরোধীরা। বৈঠকে NCPI-এর যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সর্বদলীয় বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা। যদিও এই বৈঠক ছিল পুরোপুরি প্রতীকী। কিছু সময় পরেই ফের বৈঠকে যোগ দেন তাঁরা। এদিন ৩ ঘণ্টা এই বৈঠক চলে।

তৃণমূল মহুয়া মৈত্র এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, "আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দলসমূহ, শিবসেনা ইউবিটি সহ সমগ্র বিরোধী দল প্রতিবাদস্বরূপ সর্বদলীয় সভা থেকে ওয়াকআউট করেছে। এর কারণ হল, টেবিল অফিসের দেওয়া তালিকায় তথাকথিত এনসিপিআই (NCPI)—যা একটি আদতে স্বীকৃত না পাওয়া দল। তাদের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা মিলিয়ে মোট ২৮ জন সদস্য দেখানো হয়েছে। ওই তথাকথিত বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের দলবদল বা সংযুক্তি স্পিকার অনুমোদন করেনি এবং তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের ২০টি আবেদন এখনও বিচারাধীন। ৯১তম সংবিধান সংশোধনের পর আলাদা কোনো 'ব্লক' গঠনের আর কোনো অবকাশ নেই। তাহলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কোন যুক্তিতে এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে আমন্ত্রণ জানালেন এবং তাঁরা কীভাবে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন? আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা আমাদের সহযোগী বিরোধী দলগুলোর প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"

বৈঠকের আগে জেএমএম সাংসদ মহুয়া মাঝি সাংবাদিকদের বলেন, "আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন বিজেপি কীভাবে অন্যান্য দলের সাংসদদের দলে টানছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে তাদের সম্ভবত এখনও প্রায় ছয়টি আসন কম আছে। তাই, তাদের অবশ্যই ভারতের বিরোধী জোটের ওপর নির্ভর করতে হবে। তারা নারী সংরক্ষণ বিলটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।"

উল্লেখ্য, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহীদের গতকালই চিঠি পাঠিয়েছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এখনও এই বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দল এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেননি। আর এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই প্রতিবাদে স্বরূপ হয়েছে বিরোধীরা। বিদ্রোহী সাংসদরা দাবি করেন, তাঁদের যেন মূল তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বসানো না হয়। পরে এই দাবি মেনে নিয়ে তাঁদের জন্য আলাদা বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, NCPI-এর TMC সাংসদদের দাবি, তাঁদের স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

Advertisement

 NCPI-এর ২০ জন লোকসভা সাংসদ একটি নতুন দলে যোগ দেওয়ার এবং সংসদে পৃথক আসন বিন্যাসের অনুরোধ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন; এটি নিয়ম অনুযায়ীই করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। যখন বিষয়টি স্পিকারের সামনে রয়েছে এবং এতে ২০ জন সাংসদ জড়িত, তখন আমরা কীভাবে তাঁদের বাদ দিতে পারি? লোকসভা সকলের; আমরা কীভাবে এই ২০ জন সাংসদকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পারি?  লোকসভা স্পিকারের সচিবালয় কী পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করা সরকারের কর্তব্য; যদি কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়, তবে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। আমি কীভাবে কাউকে বাদ দিতে পারি?..."

বাদল অধিবেশনে সরকারের কর্মসূচি ও বিরোধী দলের কৌশলে নজর

এই বর্ষাকালীন অধিবেশনে সরকারের আলোচ্যসূচি মূলত বিভিন্ন বিলকে কেন্দ্র করে। সরকার নতুন আঙ্গিকে ডিলিমিটেশন বিল, নারী সংরক্ষণ বিল এবং প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অপসারণের প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনা করতে চায়। এদিকে, বিরোধী দল একাধিক ক্ষেত্রে সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী সাংসদরা সংসদে E-20 বিতর্ক, মুদ্রাস্ফীতি, বিদেশ নীতি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো উত্থাপন করতে পারে।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement