
abhijit dipke vs Mary Millben বিদেশি অর্থে ভারতে 'গোলমাল পাকানো'র চেষ্টা করছে ককরোচ জনতা পার্টি। এমন অভিযোগ উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে গেরুয়াপন্থী নেটিজেনরা অভিযোগ করছেন। এবার ওই একই অভিযোগ শোনা গেল মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের গলায়। তাঁর এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার মার্কিন গায়িকার রয়েছে কিনা, পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ঘিরে সূচনা ককরোচ জনতা পার্টির। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা। তারপর নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ। তার জেরে দায়িত্ব ছাড়েন ধর্মেন্দ্র। এবার এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সিজেপির। সেই আবহেই সমাজমাধ্যম এক্সে শুরু তরজা।
মার্কিন গায়িকার বিস্ফোরক অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করেন মেরি মিলবেন। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার কিছু নির্দিষ্ট লোক অন্য দেশগুলিতে মার্কিন শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেন। তারপর তাঁদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিয়ে অর্থসাহায্য করা হয়। যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। মিলবেনের দাবি, এই ধরনের উদ্যোগের প্রভাব উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর পড়েছে। যদিও তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও চেষ্টাই শেষপর্যন্ত সফল হয়নি। এর মোকাবিলায় পাল্টা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মিলবেন। তাঁর কথায়,'বিশৃঙ্খলাকারী শক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে নামা উচিত তরুণ ভারতীয়দের'।
এক্সে তিনি লেখেন,'ভয় পেয়ো না, আমার তরুণ দেশপ্রেমীরা। ২৫ বছর ধরে ভারতের সেবা করে আসা তোমাদের প্রধানমন্ত্রী, যার মধ্যে ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং যিনি পর পর তিন বার নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের বাধা সৃষ্টিকারী শক্তির কাছে মাথানত করবেন না'।

জবাব অভিজিৎ দীপকের
মিলবেনের এই মন্তব্যের জবাবে অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার বিদেশি নাগরিকদের কে দিয়েছে? দীপকের কথায়,'বিদেশি নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে দিয়েছে? নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে আমরা যথেষ্ট সক্ষম। দেশের বিষয়ে বাইরের কারও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই'। পাশাপাশি, নিজের দেশের নাগরিকদের হেয় করতে প্রধানমন্ত্রী মোদী আমেরিকার সমর্থন চাইছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর পাল্টা জবাবে মিলবেন বলেন,'আমেরিকার সমর্থনের প্রয়োজন নেই প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর পাশে রয়েছেন ১৫০ কোটি ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা তাঁকে সমর্থন করে আসছেন ২৫ বছর ধরে। এর মধ্যে ১২ বছর তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং পর পর তিন বার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৯ সালেও তিনি জিতবেন। এটাই সত্যি'। দীপককে কটাক্ষ করে মিলবেন আরও বলেন,'তুমি সফল হবে না, কারণ বিশৃঙ্খলাকারীরা কখনও জেতে না। বরং আমেরিকায় পাওয়া তোমার শিক্ষা ও প্রতিভাকে ভাল কাজে লাগাও'।
ভারতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দীপককে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বসে আলোচনা করারও আহ্বান জানান মিলবেন। তাঁর কথায়,'ভারতের অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে কথা বলো'। সবশেষে তিনি লেখেন,'সঠিক কাজ করার সাহস তোমার কতটা, তা প্রমাণিত হবে আগামী পদক্ষেপেই'।

বলে রাখি, ৪১ বছর বয়সি আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরি মিলবেন ভারতে পরিচিত জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন' এবং ভক্তিগীতি 'ওম জয় জগদীশ হরে' গাওয়ার জন্য। ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মার্কিন সফরের সময় একটি অনুষ্ঠানে 'জন গণ মন' গেয়েছিলেন।