বারাণসীর গঙ্গাবক্ষে মদ-মাংসের পার্টি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গাবক্ষে নৌকায় বসে মুরগি রান্না এবং মদ্যপানের আসর বসিয়েছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছিল, ওই নৌকাটি
জনৈক BJP নেতার। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তারপরই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনায়। ভিডিওতে দেখতে পারওয়া নৌকাটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বারাণসীর দশাশ্বমেধ ঘাটের কাছে গঙ্গার উপর একটি নৌকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক মিনিটেরও বেশি সময়ের ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে কয়েক জন ব্যক্তি নৌকায় বসে রান্না করছেন এবং মদ্যপান করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম দীপক কুমার, অজয় সাহানি, অরুণ কুমার সাহানি, অনুরাগ নিষাদ এবং রাহুল সাহানি। প্রত্যেকেই বারাণসীর রামনগর এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় দশাশ্বমেধ থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত নৌকাটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে ACP দশাশ্বমেধ অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠী বলেন, 'ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে।' তিনি আরও জানান, ভিডিওটি সম্ভবত পুরনো। কারণ, তাতে অভিযুক্তদের শীতের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে।
ACP আরও বলেন, 'গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের ঘটনা রুখতে পুলিশ ও বিশেষ তল্লাশি দল গঠন করা হয়েছে। ফলে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমেছে। তবুও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।'
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছিল, ওই নৌকাটি স্থানীয় এক BJP নেতার। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নৌকার মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভিডিওতে দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে গঙ্গায় এ ধরনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে রমজান উপলক্ষে গঙ্গার উপর নৌকায় ইফতার আয়োজনের অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া, মে মাসে গঙ্গায় স্নান করার সময় এক ব্যক্তিকে বিয়ার পান করতে দেখা যাওয়ার অভিযোগেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর বারাণসী প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, গঙ্গার বুকে এমন কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না যা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে।