দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সিতৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি! বিধানসভা প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক সব অভিযোগ সামনে আসছে। নয়া চার্জশিটে জানানো হয়েছে, এই দম্পতি দিনের পর দিন সিন্ডিকেট চালিয়েছেন, জমি জবরদখল, দেদার তোলাবাজি ও চাকরির নামে প্রতারণা সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিলেন।
১০০ কোটি টাকার বেআইনি সম্পদ
সরকারি আইনজীবী জানাচ্ছেন, অদিতি ও দেবরাজের বেআইনি সম্পত্তি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। বিধানসভা ভোটের আগে ওই টাকার একটি বড় অংশই অন্যত্র সরিয়ে ফেলে হয়েছে। পুলিশের কাছে একাধিক প্রমাণও রয়েছে এই বিষয়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টেও নাকি এই অবৈধ টাকা গিয়েছে বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে। দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাগুইআটি-কেষ্টপুর থেকে প্রায় ১০ কোটি তোলাবাজি করা হয়েছে। তোলাবাজির সেই টাকা জমা পড়ে যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে। সেই অ্যাকাউন্টের সিগনেটারি ছিলেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ। পরে সেই টাকা ট্রান্সফার করা হয় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে'।
দেবরাজের বিরুদ্ধে আরও চার্জশিটের সম্ভাবনা
জানা যাচ্ছে, দেবরাজের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ। গত ৬ অগাস্ট দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রথম দফার চার্জশিট জমা পড়েছিল। রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং প্রভাবশালী কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংতিহীন সম্পত্তি এবং তা গোপন করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে বেনামে ও আত্মীয়দের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতবদল করেছেন এই দম্পতি। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির হিসাবও কম দেখিয়েছিলেন অদিতি মুন্সি।
পয়লা জুলাই পুরুলিয়ায় গ্রেফতার করা হয় দেবরাজকে
দেবরাজ ও অদিতি, দুজনেই আইনি রক্ষাকবচের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অদিতির কয়েক মাস আগে সন্তান হয়েছে। তাঁর মাতৃত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে হাইকোর্টে রক্ষাকবচ দিলেও, দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় দেবরাজতকে।