
মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সোনম রঘুবংশীর মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন তিনি। আর সেই জামিনের নেপথ্যে উঠে এসেছে পুলিশের এক গুরুতর ত্রুটি, টাইপিংয়ের ভুলে গ্রেফতারি নথিতে ভুল ধারা উল্লেখ করা।
২০২৫ সালে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সোনমকে। ঘটনার পর গোটা দেশ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এর আগে তিনবার জামিনের আবেদন করলেও প্রতিবারই তা খারিজ হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলে যায় একটি ‘প্রক্রিয়াগত ভুল’-এর কারণে।
জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের সময় পুলিশের তৈরি করা মেমোতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী খুনের ধারা ১০৩ (১) উল্লেখ করার কথা থাকলেও, সেখানে ভুলবশত ৪০৩ (১) ধারা লেখা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৪০৩ ধারা ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্তর্গত এবং তা অসাধু উপায়ে সম্পত্তি আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত, খুনের সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই। নতুন আইনে (বিএনএস) এই ধারা প্রযোজ্যই নয়।
এই ভুল কেবল একটি নথিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একাধিক সরকারি কাগজপত্রে একই ত্রুটি পাওয়া যায়। আদালত স্পষ্ট জানায়, অভিযুক্তের অধিকার রয়েছে জানতে যে, ঠিক কোন ধারায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সোনমকে সেই তথ্য সঠিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুতর গলদ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও, সোনমকে প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর আদালতে তোলার সময় তার সঙ্গে কোনও আইনজীবী ছিলেন না বলেও উঠে এসেছে। ফলে তখনই তিনি এই ত্রুটি নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেননি বলে মনে করছে আদালত।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অনুমতি ছাড়া তিনি এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারবেন না এবং প্রতিটি শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
এই ঘটনায় মৃত রাজা রঘুবংশীর পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রশ্ন, এত বড় ভুল কীভাবে ঘটল? পুলিশের এই গাফিলতি এখন তদন্তের মুখে।