প্রতীকী ছবি মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের দেহ উদ্ধার। প্রত্যেকের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে রেললাইনের উপর উদ্ধার হয়েছে পরিবারের কর্তা নরেন্দ্র সাহুর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরিবারের চার সদস্যকে খুন করার পর আত্মঘাতী হয়েছেন নরেন্দ্র। যদিও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে রেললাইনের উপর একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখার পর খবর যায় পুলিশের কাছে। পরে মৃতের পরিচয় জানা যায়। তিনি মালিখেড়ি এলাকার বাসিন্দা নরেন্দ্র সাহু। এরপর পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের আরও চার সদস্যের দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাঁদের খুন করা হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে নিশাতপুরার এসিপি শশাঙ্ক জৈন জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পরিবারের ঋণের বোঝায় জর্জরিত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, নরেন্দ্র শাহুর উপর ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার দেনা ছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, নরেন্দ্র কারও কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। তবে কোনও ঋণদাতা বা অন্য কারও কাছ থেকে পরিবার হুমকি পাচ্ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১৫ দিন আগেই বন্ধ হয়ে যায় রেস্তরাঁ
তদন্তে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র সাহুর একটি রেস্তরাঁ ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকেই আর্থিক সমস্যায় পড়েছিল পরিবার। প্রায় এক বছর আগে মালিখেড়ি এলাকায় এসে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন তাঁরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে থাকাকালীন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের গলা কেটে খুন করেন নরেন্দ্র। এরপর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে এই ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঋণের চাপ, নাকি অন্য কোনও কারণ?
পরিবারের উপর ঋণের বোঝা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে শুধুমাত্র ঋণের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া এবং ঋণের উৎস ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের উপর কারও চাপ বা হুমকি ছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সব দিক খতিয়ে দেখছে ভোপাল পুলিশ।