Samrat Mukherji: পরিচারিকাকে মারধরে অভিযুক্ত সম্রাট, পাল্টা আংটি চুরির অভিযোগ অভিনেতার

Tollywood News: সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ি থেকে একটি আংটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিচারিকারাকে একটি ঘরে আটকে রেখে শারীরিকভাবে  অত্যাচার করা হয়। এরপরই অভিনেতা সেই মহিলাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে, মারধর করেন।

Advertisement
পরিচারিকাকে মারধরে অভিযুক্ত সম্রাট, পাল্টা আংটি চুরির অভিযোগ অভিনেতারসম্রাট মুখোপাধ্যায়

শিরোনামে সম্রাট মুখোপাধ্যায়। বাড়ির পরিচারিকার ওপর নির্মম ও অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল টেলিভিশন অভিনেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিদেবপুর থানায় এ বিষয়ে ইতিমধ্যে দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ি থেকে একটি আংটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিচারিকারাকে একটি ঘরে আটকে রেখে শারীরিকভাবে  অত্যাচার করা হয়। এরপরই অভিনেতা সেই মহিলাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে, মারধর  করেন। এমনকী সম্রাটের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

পরিচারিকার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। এদিকে, ওই পরিচারিকার বিরুদ্ধে পাল্টা চুরির অভিযোগ এনে সম্রাটের স্ত্রী- অভিনেত্রী ময়না মুখোপাধ্যায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেই খবর। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ মে বিকেলে। বিগত প্রায় এক মাস ধরেই সম্রাট- ময়নার বাড়িতে কাজ করতেন ওই মহিলা। বাড়িতে কিছু হারালেই নাকি, অভিযোগের তির যেত ওই মহিলার দিকে। কিন্তু বুধবার, অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করে যায়। জানা গেছে, সেদিন বিকেলে সম্রাটের আংটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সারা বাড়ি খোঁজাখুঁজি করার পর না পাওয়ায়, আক্রোশ গিয়ে পড়ে পরিচারিকার ওপর। অভিযোগ, চুরির অভিযোগ তুলে, ওই মহিলাকে একটি ঘরের ভেতর আটকে রাখেন অভিনেতা এরপর নাকি জোরপূর্বক তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কোনও কিছুই উদ্ধার না হওয়ায়, অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এরপর নাকি বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে অ্যাসিড এবং লাঠি নিয়ে আসার নির্দেশ দেন সম্রাট। সেই লাঠি নিয়ে ওই পরিচারিকার ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত অভিনেতা। নৃশংস আঘাতে মহিলার মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে কানে ও মাথায় বুট দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়া হয় এবং বুকে, পিঠে, পেটে অনবরত লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে, দেওয়ালে তাঁর কপাল সজোরে ঠুকে দেওয়া হয়, যার ফলে কপাল ফুলে রক্ত জমে যায়। নিজেকে বাঁচানোর জন্য এই মহিলা যখন হাত দিয়ে লাঠিটি ধরার চেষ্টা করেন, তখন লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে তাঁর হাতের আঙুলেও গুরুতর চোট লাগে এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এরপর, মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে হরিদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমে সম্রাট বলেন, "এই পরিচারিকা আমার বাড়িতে ২৬ দিন মতো কাজ করছেন। আমি তাঁকে কোনওভাবেই মারধর করিনি। তিনি নিজেই নিজেকে আহত করেছেন। আংটি খুঁজে না পাওয়ায় আমার দারোয়ান তাঁর উপর সন্দেহ করেছিল। পরবর্তীতে তিনি পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে, আমার বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। গ্রিলে মাথা ঠুকে যায়। এখানে আমার ওঁকে মারধর করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তবে আমি পুলিশ ডাকব বলেছিলাম। এটা শোনার পরেই আমার ঘরের সমস্ত জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়ালে মাথা ঠোকেন। তারপরে নিজেই এমনটা করেন। এখন আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।"

প্রসঙ্গত, এর আগেও বারবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে সম্রাটের নামে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বেহালা একটি সড়ক দুর্ঘটনা কারণে গ্রেফতার হয়ে  শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, মধ্য রাতে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি প্রথমে একটি বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা দেয়। এরপর এক বাইক আরোহীকে ধাক্কা দেয়। তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

 

POST A COMMENT
Advertisement