সোহম চক্রবর্তী (ছবি: ফেসবুক)৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অন্ত হয়ে এরাজ্যে বিপুল জয় হয়েছে বিজেপি-র। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। টলিপাড়ায় বদল হতে শুরু করেছে। এদিকে ফের শিরোনামে সোহম চক্রবর্তী। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক- অভিনেতা তথা প্রযোজক। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করার কথা ভাবছেন সোহম। নেপথ্যে কি রাজনৈতিক না অন্য কোনও কারণ?
সোহমের প্রাণনাশের হুমকির পিছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। বরং তাঁর অভিনয় পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কারণ। বুধবার, সংবাদবাদমাধ্যমকে সোহম জানান, আসল ঘটনাটা কী। জানা যায়, ২০১৮ সালে মহুয়া চক্রবর্তীর পরিচালনায় এবং তরুণ দাসের প্রযোজনায় একটি বাংলা ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল অভিনেতার। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেসময় নিয়মমাফিক ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় সোহমকে। তবে, অভিনেতার দাবি, পরে হঠাৎই ছবির পরিচালক তাঁকে জানান, প্রযোজকের ব্যবহারে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায়, ছবি থেকে সরে যাচ্ছেন।
অভিনেতা ছবিটিতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। অন্যদিকে, প্রযোজকের তরফ থেকে অভিযোগ ছিল, সোহমের কাছে নাকি একাধিক বার ডেট চেয়েও, না পাওয়ায়, এই ছবিটি তৈরি হয়নি। প্রযোজকের এই অভিযোগ উড়িয়ে সোহম জানিয়েছেন, সেসময় তিনি এতটাও ব্যস্ত ছিলেন না যে ডেট দিতে পারতেন না। যদিও, এই প্রযোজকের সঙ্গে আগে কখনও যোগাযোগ হয়নি বলেই জানান সোহম। অভিনেতার টিমের মাধ্যমে কথা হয়েছিল। গত প্রায় ৮ বছর ধরে ছবিটি নিয়ে কোনও নাড়াচাড়া হয়নি।
সোহম জানান, কয়েকদিন আগে সেই প্রযোজকের তরফ থেকে নাকি সোহমকে ফোন করে, অগ্রিম ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাওয়া হয়। অভিনেতা, প্রযোজককে স্পষ্ট জানান, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, সেই টাকা ফেরতযোগ্য নয়। কারণ, প্রযোজকই ছবিটি তৈরি করছেন না। এরপর নাকি, প্রযোজক তাঁর অফিসে এসে টাকা ফেরত চান। অগ্রিম টাকা ফেরত দিতে না চাওয়ায়, আচমকাই মঙ্গলবার রাতে সোহমকে ফোন করে প্রযোজক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অভিনেতা আরও অভিযোগ তোলেন, প্রযোজক নাকি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের কথা বলে, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যোগ করেছেন 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান।
এই মুহূর্তে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন সোহম। তাঁর বাবা অসুস্থ, সেদিকে নজর দিচ্ছেন। এছাড়াও, অভিনয়- প্রযোজনা কেরিয়ারের দিকেও মনোনিবেশ করতে চাইছেন। তাহলে কি এবার রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন? এই প্রশ্নের জবাবে সংবাদমাধ্যমকে সোহম স্পষ্ট করে বলেন, "আর যা-ই করি, রাজনীতি আমি ছাড়ব না।"
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন সোহম। তাঁকে সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল৷ ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বারজোরা (বিধানসভা কেন্দ্র) থেকে ভোটে দাঁড়ান তিনি। তবে সিপিআই-এম-র প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। এরপর, ২০২১ সালে চন্ডীপুর কেন্দ্র থেকে ফের ভোটে দাঁড়িয়ে, জয়লাভ করেন। এবার নির্বাচনের টিকিট পেয়েছিলেন নদীয়ার করিমপুর থেকে। তবে এবার পরাজিত হোন।