ছেলে সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা (ছবি: ফেসবুক) রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরে প্রায় দু'মাস হতে চলল। অভিনেতার এই আকস্মিক মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারেননি কেউ। এই ঘটনা নিয়ে নানা ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। স্বাভাবিকভাবেই এখনও শোকস্তব্ধ রাহুলের পরিবার। স্বামী তথা বেস্ট ফ্রেন্ডকে হারানোর যন্ত্রণায় এখনও কাতর প্রিয়াঙ্কা। তবু মন শক্ত করে, এই দুর্ঘটনার দিন দশেকের মধ্যে কাজে ফিরেছেন। এবার সহজের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
রাহুলের প্রয়াণের পরে সকলের মনেই প্রশ্ন ছিল, কেমন আছে সহজ? রাহুল- প্রিয়াঙ্কা পুত্র কীভাবে বাবার মৃত্যুশোক সামলাবে, এই নিয়ে দুশ্চিন্তা সকলের মনেই। এমনকি, অভিনেতার মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সহ টলিপাড়ার বক্তব্য ছিল, 'সহজকে উত্তর দিতে চাই, ওর বাবার আসলে কী হয়েছিল, কীভাবে আকস্মিক মৃত্যু হল।' রাহুলের মা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল' নাটকটির শো দেখতে গিয়ে সহজ নিজেকে সামলাতে পারেনি। কেঁদে ফেলে সে।
বুধবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেছেন প্রিয়াঙ্কা। ক্যাপশনে লিখেছেন, "দায়িত্বশীল হওয়া আর মজা করার ঠিক মাঝখানে কোথাও..."। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, কোনো বুক স্টোরে গিয়েছেন দু'জনে। ছেলের সঙ্গেই ছোটদের বই পড়ছেন নায়িকা। কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা, দু'জনকে ভালোবাসা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রিয়াঙ্কাকে তাঁর সাহসিকতার জন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে রাহুলকে নিয়ে মনের কথা শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। রাহুলকে নিয়ে কথা বলার সময় তাঁর চোখে- মুখে ফুটে ওঠে স্পষ্ট তীব্র বেদনা। চোখ ছলছল থাকা সত্ত্বেও, মুখে মিষ্টি হাসি রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। এরপর জানান, "আমার মনে হয় সব থেকে বেশি বন্ধু রাহুলকেই মিস করি। সবচেয়ে কম কথায় গুছিয়ে বলতে গেলে আমি বলব, আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে হারিয়েছি। প্রায় একুশ- বাইশ বছরের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব আমাদের। আমি বারবারই বলেছি আমার সিনেমা দেখার, বই পড়ার, নানা জায়গায় এক্সপোজার, সব ভাবনা- চিন্তার স্ট্রাকচার, সব কিছুই আমার শেখা রাহুলের সাথে, ওঁরই প্রভাবে। সেটা আমি কোনও দিনও অস্বীকার করতে পারিনি।"
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, "ও খুব ভাল বন্ধু ছিল সকলের। এই পরিস্থিতিতে আমি আরও বেশি করে বুঝলাম কতটা ভাল বন্ধু ও ছিল। এমনকি যখন আমাদের ঝগড়া হচ্ছে, লোকে হয়তো ভেবেছে মুখ- দেখাদেখি বন্ধ আমাদের। কিন্তু তারা জানে না সেই সময়ও আমরা কত গল্প করেছি। এখনও মনে হয় ওঁর রেকমেন্ড করা চার- পাঁচটা সিনেমা দেখা বাকি আছে। আমার কাজের খুব বড় সমালোচক ও ছিল। ওঁর মতামত আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছু মানুষই আছে যাদের আমি সেই জায়গাটা দিয়েছি যাদের মতামত আমার কাছে ম্যাটার করে। আমার কোনও কাজের যতটা স্বচ্ছ ফিডব্যাক ও দিত, সেটা আমি খুব মিস করব। এটা আমার মিস হয়ে গেল।"
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবি দিয়ে বড় পর্দায় হাতে খড়ি প্রিয়াঙ্কার। ছবিটি বক্স অফিসে সুপার হিট হওয়ার পর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন রাহুল। প্রথম ছবির পর থেকেই রিলের বাইরে রিয়েল লাইফেও হিট হয় এই তারকা জুটি। ২০১০ তাঁরা গাঁটছড়া বাঁধেন। ২০১৩ সালে পুত্র সন্তানের বাবা-মা হন রাহুল- প্রিয়াঙ্কা। বিয়ের সাত বছর পর ২০১৭ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করলেও, ২০২৩-র মাঝামাঝি সময় থেকে ফের একসঙ্গেই ছিলন রাহুল- প্রিয়াঙ্কা।