অঙ্কিতা, দেবালয় (ছবি: ফেসবুক)গত দু-তিন বছর সময়কালে টলিপাড়য় একের পর এক নারী নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। আরজি কর আন্দোলনের পর থেকে আরও বেশি করে উঠে আসছে 'কাস্টিং কাউচ','মি টু' অভিযোগ। যদিও বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এই ধরণের হেনস্থার ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি আরও এক টলি অভিনেত্রী সামনে আনেন তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এরকমই এক অনভিপ্রেত ঘটনা। অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ আনেন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, শিশু-হেনস্থার মতো অভিযোগও করেন অভিনেত্রী। এবার অঙ্কিতাকে পাল্টা আইনি নোটিস পাঠালেন পরিচালক। সে চিঠিতে বলা আছে, অভিনেত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে পরিচালকের কাছে।
গত কয়েকদিন ধরে টলিপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অঙ্কিতা ও দেবালয়। সোমবার বিকেলে, সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দেবালয়ের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ আরও স্পষ্ট করেন অঙ্কিতা। এরপর, সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন দেবালয়ও। পরিচালককে একটি আইনি নোটিস পাঠান অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে। যদিও পরিচালক কোনও আইনি নোটিশ পাননি বলে দাবি করেন।
অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, বছর তিন-চারেক আগে একটি পার্টিতে পরিচালক তাঁকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বলপূর্বক চুম্বন করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, এই ঘটনার পরে পরিচালক তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবেন। কিন্তু পরিচালক এরকম কিছু না করায়, এই ধরনের হেনস্থা তিনি আর মেনে নিতে পারবেন না। সেই সঙ্গে, তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিচালক নাকি এক তারকা দম্পতির মেয়ে, যে নিজেও এখন অভিনেত্রী তাঁর সঙ্গেও অশালীন আচরণ করেছেন। সেই অভিনেত্রী এখন প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও, সেসময় সে নাবালিকা ছিলেন। যদিও, সেই অভিনেত্রী বা তাঁর বাবা- মায়ের তরফে কোনও অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি এখনও।
আইনজীবীর তরফে যে নোটিস দেবালয়ের কাছে গিয়েছে, সেখানে লেখা, অঙ্কিতা এই হেনস্থার আতঙ্ক নিয়ে তিন বছর কাটিয়েছেন। অঙ্কিতার পক্ষ থেকে কোনও সম্মতি ছিল না এবং কোনও রকমের প্রেমের সম্পর্কও ছিল না তাঁদের মধ্যে। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরাও ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই আইনি নোটিসে। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিনেত্রী বলেন, এই মুহূর্তে তিনি শুধু চান, দেবালয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে এই ঘটনা সিকার করে তাঁর কাছে ক্ষমা চান। এই কাজ পরিচালক না করলে, আরও কঠিন কিছু পদক্ষেপ নেবেন।
আইনি চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে দেবালয় বলেন, "অঙ্কিতাকে আইনি চিঠি পাঠিয়েছি। আমার সম্মানহানি হবে এমন মন্তব্য যেখানে যেখানে ও করেছে, সব জায়গা থেকে সেগুলো মুছতে হবে। সর্ব সমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। আর তা যদি অঙ্কিতা না করে, তা হলে মানহানির অভিযোগে আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমি এটাও বলতে চাই যে, আমার কাছে এখনও কোনও আইনি চিঠি আসেনি।"
দেবালয়ের মন্তব্যের পর অঙ্কিতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এখন সবটাই আইনের আওতায়। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাই প্রকাশ্যে আমি কিছু বলতে পারি না। বলতে চাইও না। সঠিক সময় এলে সবাই জানতে পারবেন। জানা যাবে আইনি চিঠি কে কখন পেয়েছিল।"
প্রসঙ্গত, এই সমস্যার সূত্রপাত হয় কয়েক দিন আগে। গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় টলিউডের একটি অন্য বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট করেন দেবালয়। সেখানেই অঙ্কিতা একটি মন্তব্য করেন, "তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না।" পরেই অবশ্য সেই পোস্টটি মুছে দেন দেবালয়। যদিও ততক্ষণে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে।