
ফের শিরোনামে সোহম চক্রবর্তী। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক- অভিনেতা তথা প্রযোজক। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করার কথা ভাবছেন সোহম।

যদিও সোহমের প্রাণনাশের হুমকির পিছনে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। বরং তাঁর অভিনয় পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কারণ।

সোহম অভিযোগ করেন, বছর আটেক আগে নেওয়া একটি ছবির অগ্রিম ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাইছে এক প্রযোজক। ছবিটি আর শেষ পর্যন্ত হয়নি। অভিনেতা, প্রযোজককে স্পষ্ট জানান, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, সেই টাকা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর নাকি, প্রযোজক তাঁর অফিসে এসে টাকা ফেরত চান। অগ্রিম টাকা ফেরত দিতে না চাওয়ায়, আচমকাই মঙ্গলবার রাতে সোহমকে ফোন করে প্রযোজক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

সোহম আরও অভিযোগ তোলেন, প্রযোজক নাকি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের কথা বলে, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যোগ করেছেন 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান।

তবে এই প্রথম না, এর আগেও বহুবার চর্চায় এসেছেন অভিনেতা। বিভিন্ন সময়ে, সমালোচনায় জড়িয়েছেন সোহম। এক রেস্তরাঁর মালিককে চড় মেরেছিলেন তিনি। এই ঘটনার জল গড়িয়েছিল বহু দূর অবধি।

এবছর ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ, সোহমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ ওঠে ৷ শুধু তাই নয়, টাকা না-দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে ৷

যদিও, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও কোনও সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেন শেখ শাহিদ ইমাম নামের এক ব্যক্তি ৷ শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি ৷ এছাড়াও, বিভিন্ন সময় নিজের মন্তব্যের কারণে শিরোনামে এসেছেন।

২০১৪ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন সোহম। তাঁকে সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল৷ ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বারজোরা (বিধানসভা কেন্দ্র) থেকে ভোটে দাঁড়ান তিনি। তবে সিপিআই-এম-র প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন।

এরপর, ২০২১ সালে চন্ডীপুর কেন্দ্র থেকে ফের ভোটে দাঁড়িয়ে, জয়লাভ করেন। এবার নির্বাচনের টিকিট পেয়েছিলেন নদীয়ার করিমপুর থেকে। তবে এবার পরাজিত হোন।

এই মুহূর্তে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন সোহম। তাঁর বাবা অসুস্থ, সেদিকে নজর দিচ্ছেন। এছাড়াও, অভিনয়- প্রযোজনা কেরিয়ারের দিকেও মনোনিবেশ করতে চাইছেন। তাহলে কি এবার রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন? এই প্রশ্নের জবাবে সংবাদমাধ্যমকে সোহম স্পষ্ট করে বলেন, "আর যা-ই করি, রাজনীতি আমি ছাড়ব না।"