
রচনা বন্দোপাধ্যায়শিরোনামে রচনা বন্দোপাধ্যায়। বাংলা নন ফিকশন শো 'দিদি নম্বর ১' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সঞ্চালিকা বদল হয়েছে। বাদ পড়েছেন রচনা। সেই জায়গা নিতে চলেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। নতুন প্রমো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রীতিমতো হৈচৈ টেলিপাড়ায়। এক যুগের বেশি সময় ধরে ছোটপর্দার দর্শকদের প্রিয় গেম শো 'দিদি নম্বর ১'। বেশিরভাগ সিজনেই সকলের মন জয় করেছেন রচনা।
স্বস্তিকাকে নতুন 'দিদি' রূপে দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নেটিজেনদের। নেতিবাচক মন্তব্যে পাশাপাশি, বহু দর্শক লিখেছেন, এবার থেকে তারা নিয়মিত দেখবেন এই শো। 'দিদি নম্বর ১' নিয়ে আলাদাভাবে মুখ খোলেননি স্বস্তিকা। তবে নেটিজেনদের মন্তব্যের উত্তর দিয়েছেন। নায়িকা লিখেছেন, "আমি সব সময়ই আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আশা করি এই শোয়ের সমস্ত দর্শক নতুন সিজন উপভোগ করবেন। আপনাদের সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই শো’টি কিন্তু ১০ বছর নয়, টানা ২০ বছর ধরে চলছে! তাই এটা একটা মস্ত বড় দায়িত্ব।"

এদিকে, 'দিদি নম্বর ১' থেকে হঠাৎ বাদ পড়ায় কিছুটা ভেঙে পড়েছেন রচনা। শুধু তাই নয়, চ্যানেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী- সাংসদ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, মাত্র দু'দিনের নোটিশের শো বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, "একটা রুল আছে চ্যানেলের যে সাত দিনের মধ্যে তারা আমার কাজ বন্ধ করতে পারে, সেটা কন্ট্রাক্টে থাকে৷ কিন্তু তুমি কন্ট্রাক্টের রুল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর রাখতে পারো না। যে মানুষটা তোমাদের সঙ্গে ১৫ বছর ধরে অ্যাঙ্কারিং করছে… তার সঙ্গে এরকম করা কোনও ভদ্রতা নয়। কন্ট্রাক্ট তো ২৫ পাতার হয়, তাতে প্রচুর কিছু থাকে। সে কন্ট্রাক্ট নিয়ে তো মানুষ বসে থাকে না৷ সেসব কন্ট্রাক্ট তোমরা কার সঙ্গে করবে? যখন যারা নতুন আসে ১৪ মাসের জন্য কাজ করছে, তাদের সঙ্গে। যে তোমার সঙ্গে এত বছর ধরে কাজ করল, তোমাদের শোটাকে এই জায়গায় নিয়ে গেল, তার সঙ্গে এরম করা যায় না! আমার হয়ত কিছু যায় আসে না, দু’দিনে আমাকে বন্ধ করতেই পারো কারণ আমার সঙ্গে তোমার সেই কন্ট্রাক্ট আছে যে সাত দিনের মধ্যে আমরা শো টাকে বন্ধ করতে পারি… কিন্তু একটা নৈতিকতা নেই? এটা ভাবলে না যে এতগুলো স্টাফ কী করবে দুদিন পর থেকে?"

রচনা বলেন, "আমার একটা জায়গাতেই আপত্তি, যে তুমি যখন অ্যাঙ্করকে চেঞ্জ কর বা যখন তুমি একজন এতদিনের পুরনো অ্যাঙ্করকে বদলে ফেলো, তখন তুমি তাদের একটা ন্যূনতম সময় দেবে ভাবার জন্যে বা বলার জন্যে৷ এটা একটা এথিক্স, এটা একটা ভদ্রতা কারণ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও পঞ্চাশটা জিনিস আছে করার, কিন্তু দিদি নম্বর ওয়ান না থাকলে তাঁর সঙ্গে যে সব স্টাফেরা কাজ করেন তাদের কিন্তু কিচ্ছু থাকে না। তোমরা পাঁচজন স্টাফকে দুদিনের মধ্যে বসিয়ে দিয়েছ। এটার জবাব তো দিতে হবে।" তিনি যোগ করেন, "আমি কিচ্ছু বলিনি। আমি তো ঝগড়া করতে পারি না কারও সঙ্গে…।"
ক্ষোভ উগড়ে রচনা জানান, "আজকে ১০-১১ বছর শোটা চলেছে৷ যাকে নিয়ে তোমাদের চ্যানেল টাকা কামাল, তোমাদের চ্যানেলকে এই জায়গাটায় পৌঁছল, দিদি নম্বর ওয়ান, সেই শো টাকে তোমরা যখন চেঞ্জ করছ, তোমাদের একটা ভদ্রতা, সভ্যতা, নৈতিকতা, এথিক্স যাই বল না কেন, সেটা তোমাদের একটা থাকবে না যে অ্যাঙ্কারকে আমরা অন্তত ৩-৪ মাস আগে থেকে বলব যাতে তার স্টাফ গুলো ঠিকঠাক কাজ পেয়ে যায়৷ আমার ব্যবসা আছে। আমার পলিটিক্স আছে। আমার অন্য কাজেও থাকবে। আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিরা, তারা কি করবে? যেটা ভুল সেটা ভুল!"
চ্যানেল ও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে রচনার মন্তব্য, "স্বস্তিকা নিশ্চয় ভাল কাজ করবে৷ আমাদের দিদি নম্বর ১-এর টিম যারা রয়েছে, ডিরেক্টরস যারা আছে, আমার ম্যানেজার্স যারা কাজ করে, তারা সবাই খুব ভাল। আমার সঙ্গে এত বছরের সম্পর্ক। তারা বড়ই হয়েছে আমার সঙ্গে৷ তারা নিজেরাই চোখের জল ফেলছে, যে দিদি আমরা কী করে তোমাকে ছাড়া থাকব। কথাটা হচ্ছে আমি চ্যানেলকে নিয়ে বলছি, কথাটা হচ্ছে আমি প্রোডাকশন এর যারা মাথা যারা তাদেরকে নিয়ে বলছি…ডিরেক্টর ডিপার্টমেন্ট যারা রয়েছে…ডিরেক্টর অভিজিৎ সেন, নবনীতা সেন, সুশান্ত ঘোষ… আমি তাদের কথা বলছি, তারা তো বড় বড় জায়গায় বসে রয়েছে অফিসে। তারা এই কাজ কী করে করতে পারে?"

রচনার কথায়, "এটা ওদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ওদের প্রমাণ করে দেখাতে হবে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও পরিবর্ত কেউ হতে পারে। সেটা করে দেখাক ওরা। আমি সেই দিনটাই দেখার অপেক্ষায় আছি। সঞ্চালিকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ওরা নিয়েছিল। আমি আমার সবটুকু দিয়ে এই অনুষ্ঠান করেছি। এই শো আজ যে জায়গায় রয়েছে, সেটা আমি ছিলাম বলে এবং আমার অবদান ছিল বলেই এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।" স্বস্তিকা নতুন সঞ্চালিকা। সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, "স্বস্তিকা আমার খুব ভাল সহকর্মী। বহু দিনের সম্পর্ক আমাদের। নিশ্চয়ই খুব ভাল কাজ করবে। অনেক শুভেচ্ছা। আশা করছি, মানুষও ওকে খুব ভাল ভাবে গ্রহণ করবে। আমি চাই, এই অনুষ্ঠান একই ভাবে জনপ্রিয়তা পাক, সফল হোক।"
প্রসঙ্গত, 'দিদি নম্বর ১' বাংলার প্রত্যেক ঘরে ঘরে সকলের প্রিয়। এত দিন হিট ছিলেন শোয়ের সঞ্চালিকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগের বেশিরভাগ সিজনেরই সঞ্চালিকা ছিলেন রচনা। প্রথম সিজনে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া সিজন ৩ -এ জুন মালিয়া এবং সিজন ৫-এ দেবশ্রী রায়কেও সঞ্চালিকা হিসাবে দেখা গেছে। সিজন ৮- এ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা প্রয়াত হওয়ার পর, তিনি কয়েক দিনের বিরতি নেন। সেই সময় সুদীপা চট্টোপাধ্যায় এবং সৌরভ দাস সেই দায়িত্ব সামলেছেন কিছুদিন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রচারের কাজে যখন রচনা ব্যস্ত ছিলেন, তখন এই শো সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন রুবেল দাস ও শ্বেতা ভট্টাচার্য। এবার দেখার নতুন মোড়কে, নতুন 'দিদি'কে নিয়ে, নতুন সময়ে কতটা সফল হয় 'দিদি নম্বর ১' সিজন ১০।
শুরু হতে চলেছে 'দিদি নম্বর ১'-র সিজন ১০। এবার চার জন দিদি নয়, খেলা হবে ১০ জন দিদিকে নিয়ে। ১০ গুণ মজা আর ১০ গুন পুরস্কার থাকবে এই নতুন সিজনে। আগামী ২৯ জুন থেকে বদল হচ্ছে শোয়ের সময়ও। এতদিন বিকালে দেখা যেত। তবে এবার থেকে সোম থেকে শুক্রবার রাত ১০.১৫ মিনিটে সম্প্রচার হবে 'দিদি নম্বর ১'। তবে ফরম্যাটে আর কোনও বদল থাকবে কিনা, তা কখনও স্পষ্ট নয়। এবার দেখার নতুন রূপে কতটা সফল হয় এই সিজন। সেই সঙ্গে রচনার জায়গায় সকলের মনের কতটা কাছে পৌঁছতে পারেন স্বস্তিকা।