Director Raja Sen Passes Away: প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন, শোকস্তব্ধ বাংলা বিনোদন জগৎ

জানা গিয়েছে, বয়সের কারণে তো বটেই, তো ছাড়া বছর খানেক আগে মায়া মৃদঙ্গ ছবির শ্যুটিং সেটে পড়ে গিয়ে চোট পান পরিচালক। তারপর থেকে হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ পরপর দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পরিচালক।

Advertisement
প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন, শোকস্তব্ধ বাংলা বিনোদন জগৎপ্রয়াত পরিচালক রাজা সেন
হাইলাইটস
  • প্রয়াত জনপ্রিয় বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন।

প্রয়াত জনপ্রিয় বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।  ভর্তি ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পরিচালক। পরিচালকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। পরিচালক হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় তিনি গিয়ে দেখেও এসেছিলেন। 

জানা গিয়েছে, বয়সের কারণে তো বটেই, তো ছাড়া বছর খানেক আগে মায়া মৃদঙ্গ ছবির শ্যুটিং সেটে পড়ে গিয়ে চোট পান পরিচালক। তারপর থেকে হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ পরপর দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পরিচালক। ভেন্টিলেশনে ছিলেন। অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। পাপিয়া অধিকারী এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ধীরে ধীরে একাধিক অঙ্গ বিকল হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা খুবই চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষরক্ষা হল না। 

স্ত্রী পাপিয়া সেন জানিয়েছেন তাঁর ভাসুর এসেছেন মুম্বই থেকে। তাঁর দাদা রয়েছেন। পরিচালকের ছোটমেয়ে থাকলেও বড়মেয়ে জার্মানিতে থাকেন। বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে সদ্যই ফিরেছেন বড়মেয়ে। এখনই আসতে পারবে না বলে জানান পরিচালকের স্ত্রী। চলতি বছরের গোড়াতেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল রাজা সেনকে। তখন অস্ত্রোপচারও হয়েছিল তাঁর। দশ বছর আগেকার এক সমস্যা সেসময়ে বড় আকারে থাবা বসায় পরিচালকের শরীরে। পড়ে যাওয়ার পর কোমরে মারাত্মক চোট পেলেও প্রথমে তাতে বিশেষ পাত্তা দেননি, কিন্তু অবহেলার কারণেই মাশুল গুনতে হয় পরবর্তীকালে। 

প্রসঙ্গত, বাঙালির রুপোলি পর্দা ও টেলিভিশনের আঙিনায় এক যুগের অবসান। রঙিন দুনিয়ায় পা রাখার আগে দূরদর্শনের পর্দায় তাঁর পরিচালনায় তাক লাগিয়ে দিয়েছিল একের পর এক সফল টেলিভিশন ধারাবাহিক। ১৯৯৭ সালে তাঁর পরিচালিত ধারাবাহিক ‘সুবর্ণলতা’ দূরদর্শনে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। শুধু তাই নয়, তথ্যচিত্র বা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণেও তাঁর দক্ষতা ছিল অনবদ্য। ১৯৯২ সালে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সুচিত্রা মিত্রের ওপর নির্মিত তাঁর প্রামাণ্যচিত্রের জন্যই তিনি তাঁর জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

Advertisement

১৯৯৬ সালে বাংলা ছবি ‘দামু’-র মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রের পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এক গ্রাম্য সরল মানুষের সঙ্গে একটি হাতির বন্ধুত্বের পটভূমিতে তৈরি এই ছবি জাতীয় স্তরে ব্যাপক সমাদৃত হয় এবং ১৯৯৬ সালের শ্রেষ্ঠ শিশু চলচ্চিত্র হিসেবে ‘স্বর্ণকমল’ লাভ করে। রাজা সেনের হাত ধরে বাংলা দর্শক পেয়েছে একের পর এক কালজয়ী ও মননশীল চলচ্চিত্র। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকার মধ্যে রয়েছে দামু, আত্মীয় স্বজন, দেশ, দেবীপক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, ল্যাবরেটরি। পরিচালকের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিউডে শোকের ছায়া।   

POST A COMMENT
Advertisement