
গত বছরের পুজোতে মিমির বন্ধুদের সঙ্গে নায়িকার হবু বরবিয়ে করতে চলেছেন মিমি! শুক্রবার থেকেই টলিপাড়ার নায়িকার বিয়ের খবর নিয়ে সরগরম। এতদিন নিজেকে সিঙ্গল বলেই দাবি করে এসেছেন নায়িকা। এমনকী একাধিক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছেন যে এখনও মনের মানুষ খুঁজে পাননি তিনি। যদিও শোনা যাচ্ছে, বেশ কয়েক মাস ধরেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন মিমি। চলতি বছরেই মনের মানুষের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন নায়িকা। আর এরই মাঝে সামনে এল মিমির হবু বরের ছবি।
জীবনসঙ্গী হিসাবে কাকে বাছলেন নায়িকা, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে নেটপাড়ায়। জীবনসঙ্গী হিসেবে নায়িকা যাঁকে নির্বাচন করেছেন, তিনি আদতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। নৌসেনায় কর্মরত তিনি। নাম সিদ্ধার্থ। দিও এখনও পর্যন্ত বিয়ে নিয়ে পাত্রপাত্রী উভয়ের মুখেই কুলুপ, তবে খবর পুজোর আবহেই পরস্পরের মন বিনিময় হয়েছে। মিমির প্রিয় বন্ধু অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে গত বছরের পুজোর কিছু ছবি রয়েছে। আর এক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সেখানেই দেখা গিয়েছে মিমির হবু বরকে। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে মিমি ছবি তুলেছেন। আর বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে, একেবারে পিছন দিকে চশমা পরা এক ব্যক্তি নাকি মিমির হবু বর সিদ্ধার্থ।

এদিকে সূত্রের আরও দাবি, বিয়ের শপিং থেকে নিমন্ত্রণপত্র বিলিপর্বও নাকি চলছে জোরকদমে। কারণ হাতে আর মাত্র সাড়ে তিন মাস। এক সংবাদমাধ্যমকে মিমির আপ্তসহায়ক জানিয়েছেন যে নায়িকার বিয়ের বিষয়ে কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে ইন্ডাস্ট্রির ফিসফাস, চলতি বছরের নভেম্বরেই আইনি বিয়ে সারবেন মিমি। আর ডিসেম্বরে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করবেন। তাও আবার কালিম্পংয়ে। আসলে মিমি তো নিজেও জলপাইগুড়ির মেয়ে। তাই জীবনের বিশেষ মুহূর্তটি তিনি পাহাড়েই কোলেই সারতে চান। বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গিয়েছে, আত্মীয়দের হাতে, তেমনই জানা যাচ্ছে। মিমির বিয়ে নিয়ে তাই টলিপাড়ার চর্চা কিন্তু বেশ তুঙ্গে। এখনও মনের মানুষকে সামনে আনেননি তিনি।
টলিউডের ব্যস্ততম নায়িকা মিমি চক্রবর্তী। চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরুর আগে তিনি মডেল হিসেবেই শোবি বিজের জগতে পা রাখেন। ২০১০ ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে পুপু চরিত্রটি করার পর মিমি রাতারাতি ঢুকে পড়েন আম বাঙালির ড্রেসিংরুমে। পরে বাপি বাড়ি যা ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় ডেবিউ হয় তাঁর। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’। নায়িকার যে ‘টিপিক্যাল’ চরিত্র বাণিজ্যিক ছবিতে দর্শক দেখতে অভ্যস্ত, তার থেকে কিছুটা আলাদা ছিল এই দু’টি চরিত্র। স্টিরিওটাইপের বাইরে হাঁটা দুই মেয়ের ভূমিকাতেই মিমি সকলের নজর কাড়েন। রোম্যান্টিক থেকে অ্যাকশন, সবেতেই দুর্দান্ত মিমি। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সফলতম নায়িকা। অভিনেত্রী হিসেবে এমন সাফল্যের মাঝেই ২০১৯ সালে পা রাখেন রাজনীতির আঙিনাতেও। সেবার লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত নিজের ছবির কাজে। পুজোতে মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। আরও একটি নতুন ছবির শ্যুটিংও শুরু করবেন।