
শ্রীলেখা-জয়াস্বাধীনতা দিবসের আগের দিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ডাকে আয়োজন করা হয়েছিল এক মধ্যরাতের পদযাত্রার। যেখানে সাধারণ মেয়েদের পাশাপাশি দেখা যায় টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেত্রীদেরও। কলকাতার রাজপথে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদারদের সঙ্গে পা মেলাতে দেখা গিয়েছিল ওপার বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়া আহসানকেও। এপার বাংলাতেও জয়া জনপ্রিয়তা কম কিছু নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তিলোত্তমার রাস্তায় হেঁটে ট্রোলের শিকার হতে হয় তাঁকে। অনেকেই তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এবার ঢাকাই নায়িকাকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শ্রীলেখা মিত্র।
বাংলা একাধিক ছবিতে জয়ার অভিনয় সমাদৃত। টলিউডের নায়িকা হিসাবেই তাঁকে দেখা হয়। যিনি সৃজিত থেকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির পছন্দের নায়িকা। কিন্তু ১৪ অগাস্টের রাতে বাংলাদেশি নায়িকাকে এই পদযাত্রায় সামিল হতে দেখে অনেকেই ভ্রুঁ কুঁচকেছেন। এবার দেশদ্রোহী তকমা পাওয়া অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র সরব হলেন জয়াকে নিয়ে। বাংলাদেশি নায়িকাকে কটাক্ষ করে একজন পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। শ্রীলেখা সেই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন।

ওই ব্যক্তি জয়া আহসানের ১৪ অগাস্টের রাতের মিছিলের ছবি পোস্ট করে লেখেন, জয়া আহসান কবে থেকে ভারতীয় হয়ে উঠল, প্লিজ জানাবেন। আজন্ম আমি জেনে এসেছি, ১৫ই আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল? আর কদিন আগে অবধি দিপু দাস হত্যাকান্ড" নিয়ে, ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়েছিল। রিসেন্টলি, দিলীপ ঘোষ মহাশয়, ভারতীয় মুসলমান গোষ্ঠীকে নমাজ পড়তে হলে, পাকিস্তান চলে যাওয়ার সাজেশন অবধি দিয়েছেন।………..জয়া আহসান হচ্ছেন - সনাতনী, পিওর, আদি, আসল ভারতীয়। নেতাজির পূর্বপুরুষ। আমার উত্তর চাই কেন? জয়া আহসান থেকে তাসলিমা নাসরিন তা হল, তাদের জন্মভূমির কাছে দেশদ্রোহী।’ শ্রীলেখা এই পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, ‘ধর্ম...ধান্দা..ও দেশপ্রেম......বাকিরা দেশদ্রোহী...হিংটিংছট’।
যদিও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বিশেষ আমন্ত্রণেই এই ওয়াকাথনে যোগ দেন জয়া। ঢাকায় ফেরার টিকিট বাতিল করে ইমন-পৌষালীদের সাথে গলা মেলান ‘কারার ঐ লৌহকপাট' থেকে ‘অ্য়ায় মেরে ওয়াতনকে লোগো’তে। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই জয়াকে নিয়ে নেটিজেনের একাংশ কাদা ছোড়াছুড়ি করতে নেমে পড়েন। কিছুদিন আগেই মোদীর আপত্তিজনক এক পোস্টার হাতে নিয়ে ছবি তুলে বিজেপি সরকারের রোষের শিকার হয়েছিলেন শ্রীলেখা। তাএর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, গ্রেফতার করার দাবিও ওঠে। শ্রীলেখাকে দেশদ্রোহী তকমাও দেওয়া হয়। সেই সময় প্রতিবাদ করে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন শ্রীলেখা।