
বৈঠকে মিঠুন, জিৎ, রুদ্রনীলরা ছবি সৌজন্যে: ফেসবুকটলিপাড়ার অচলাবস্থার কথা অজানা কারোর নয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার আগে থেকেই ফেডারেশন-এর দাদাগিরি সহ 'জুনিয়র বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর দাপটে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একরকমভাবে পিছিয়েও গিয়েছিল। প্রায় দিনই শ্যুটিংয়ে অচলাবস্থা দেখা যেত। বাইরে থেকে কোনও কাজও এই ইন্ডস্ট্রিতে এন্ট্রি পেত না। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর তাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও ছিল প্রধান লক্ষ্য। আর এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক-আলোচনাও হয়েছে। তৈরি হয়েছে কনফেডারেশন। সোমবার আবারও এইসব সমস্যা সমাধান করতেই বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে বৈঠক ডাকা হয়। যেখানে টলিউডে সরাসরি নির্বাচনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
সোমবার নন্দনে টলিউডের টেকনিশিয়ানদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তথ্য-সংস্কৃতি সচীব ড: সৌমিত্র মোহন মহাশয়, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জিৎ সহ টলিপাড়ার একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্যই ছিল বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের কাজের সমস্যাগুলো মিটিয়ে এখানে কাজের পরিবেশকে স্বাভাবিক করা। আর এদিনই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ফেডারেশন-এর সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা হল। এদিনের বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগে গিল্ড ও ফেডারেশনের নির্বাচন হবে যথাক্রমে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর। তারপর প্রযোজকদের সংগঠন গিল্ডের নির্বাচন।

এদিনের বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, গিল্ডের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার নতুন করে গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে না। এছাড়াও বৈঠকে এটাও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে প্রতিটি সদস্যের কার্ড বা পরিচয়পত্র থাকা বাঞ্ছনীয়। কার্ড না থাকলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলেও বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মহাগুরু বলেন, 'যতদিন না নির্বাচন হয়, ততদিন চোখ খোলা থাকবে। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও নর্দমা থাকবে না।' ফেডারেশনের আওতাভুক্ত গিল্ডগুলির নির্বাচন, সদস্যপদ এবং গিল্ডের কার্ড নিয়ে পূর্বতন সরকারের আমলে দীর্ঘ দিন ধরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, এদিনের মিটিংয়ের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এগুলিই।
টলিপাড়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মিঠুন।অন্য ফলে নন্দনের এই বৈঠক টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জট কাটানোর ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ইম্পাতে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধেছিল। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ, আবার নতুন করে সভাপতি নির্বাচন, ফের অন্য একজন সভাপতিকে নিয়ে অশান্তি-সব মিলিয়ে ইম্পার অবস্থা ছিল কাহিল। অপরদিকে ফেডারেশন নামক সংস্থাটিরও ছিল অচলাবস্থা। তবে নির্বাচনের পর টলিউডের এই জট কাটবে বলেই আশা করছেন বৈঠকে উপস্থিত সকলে।