অনুরাধা পড়োয়ালমাঝে মধ্যেই নিজের করা মন্তব্যের জেরে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বলিউডের জনপ্রিয় তথা ভক্তিগীতি গায়িকা অনুরাধা পড়োয়াল। তবে এবার যে কারণে তিনি শিরোনামে, তা একেবারেই অন্য কারণ। সমকামী সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোষের শিকার গায়িকা। সকলেই তাঁর চিন্তাধারা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সম্প্রতি গায়িকা শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে এসে LGBTQ+ কমিউনিটিদের নিয়ে মন্তব্য করে বসেন। যা একেবারেই ভাল চোখে দেখছেন না এই সম্প্রদায়ের মানুষ সহ অন্যান্যরা।
কী বলেছেন অনুরাধা পড়োয়াল? গায়িকা এই পডকাস্টে এসে বিয়ে এবং পরিবর্তনশীল পারিবারিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সমকামী ও রূপান্তরকামীদের সম্পর্কে মন্তব্য করে বসেন। গায়িকা সমকামী ও রূপান্তরকামী (LGBTQ+) মানুষদের অধিকার এবং সমাজে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, যা নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। সাক্ষাৎকারে বিয়ের সনাতন রীতিনীতি বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন অনুরাধা। তাঁর মতে, বর্তমান সমাজে বিয়ের যে চেনা গুরুত্ব বা পবিত্রতা ছিল, তা কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছে। আর এর জন্য এলজিবিটিকিউ কমিউনিটিকে দেওয়া অধিকারকেই অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
অনুরাধা পড়োয়াল বলেন, 'বিয়ের পবিত্রতা আর অবশিষ্ট নেই। এর কারণ হল এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে দেওয়া অধিকার। সমাজে ওদের অবদানটা ঠিক কী?' গায়িকা আরও বলেন, 'আমি জানতে চাই। ঠিক কোন উপায়ে ওরা সমাজের কল্যাণে অবদান রাখছে?' ৭১ বছর বয়সী এই গায়িকা আরও বলেন, 'একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের বিয়ে হওয়া এবং পরিবার গড়ে তোলা। এতদিন এটাই স্বাভাবিক ও সঠিক নিয়ম হিসেবে চলে আসছে। কিন্তু এই সমকামী সমাজ... আমি তো প্রায়ই এই ধরনের জিনিসপত্র দেখছি। এগুলো সমাজের কী ভালো করছে?' অনুরাধা ডিভোর্স ও লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সমকামিতার পাশাপাশি সমাজে ডিভোর্সের হার বৃদ্ধি এবং তার ফলে সন্তানদের উপর মানসিক প্রভাব নিয়েও কথা বলেন অনুরাধা। তিনি জানান, 'আজকাল একেকটি ডিভোর্সের মামলা ১২ বছর ধরে চলে, অথচ তাদের সন্তান রয়েছে। সেই বাচ্চাগুলোর মানসিক অবস্থা কী হচ্ছে, তা নিয়ে কেউ কি ভেবেছে? সন্তানরা তো পরিবার থেকেই শিক্ষা নেয়।' তিনি মনে করেন, LGBTQ+ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে চর্চা করার আগে দেশে বাড়তে থাকা লিভ-ইন রিলেশনশিপ এবং ভাঙতে থাকা পারিবারিক কাঠামোর মতো বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া বেশি জরুরি। বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকার এই মন্তব্য নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ গায়িকার এই চিন্তাভাবনাকে 'পুরনো আমলের' বলে কটাক্ষ করতে শুরু করে। অনেকেই জানিয়েছেন যে এটা গায়িকার খুবই খারাপ চিন্তাভাবনা। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল-এ একটি বিবৃতি শেয়ার করেন গায়িকা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার মন্তব্যকে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে গিয়ে তিলকে তাল করে দেখানো হয়েছে। আমি কেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকই বোঝেন যে, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষিত ও প্রগতিশীল হতে হবে। আমি সবসময়ই তার পক্ষে। এই দেশে আমাদের প্রত্যেকেরই সম্মানজনক ভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।’