Swarup Biswas Molestation Case: কার কথায় স্বরূপের নামে কেস? সবটা বলে দিলেন সেই মহিলা

গত ৪ জুন গ্রেফতার হয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সহ ওই মেকআপ আর্টিস্টের করা শ্লীলতাহানি, খুনের হুমকিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সবটা বদলে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও করে ওই মহিলা জানিয়েছেন যে তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিয়েছেন এবং তিনি হাতজোড় করে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির কাছে ক্ষমাও চান।

Advertisement
কার কথায় স্বরূপের নামে কেস? সবটা বলে দিলেন সেই মহিলাস্বরূপ বিশ্বাস
হাইলাইটস
  • গত ৪ জুন গ্রেফতার হয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস।

টলিউডের মহিলা মেকআপ শিল্পীর করা শ্লীলতাহানি, খুনের হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হতে হয়েছিল জুনিয়র বিশ্বাস ব্রাদার্সকে। আর ঠিক দুমাসের মাথাতেই ভোল বদলে নিলেন সেই মেকআপ শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে কেস তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই মেকআপ শিল্পী। কিন্তু কেন এরকম করলেন সেই মেকআপ আর্টিস্ট? bangla.aajtak.in-এর কাছে সবকিছু ফাঁস করলেন ওই মহিলা। 
 
গত ৪ জুন গ্রেফতার হয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সহ ওই মেকআপ আর্টিস্টের করা শ্লীলতাহানি, খুনের হুমকিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সবটা বদলে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও করে ওই মহিলা জানিয়েছেন যে তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিয়েছেন এবং তিনি হাতজোড় করে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির কাছে ক্ষমাও চান। bangla.aajtak.in-কে ওই মহিলা বলেন, 'সারা দুনিয়ার লোক আমায় থু থু করছে। এদের নোংরা খেলা, যাইহোক। আমি এখনই নাম বলতে চাই না। কিন্তু আমি নিজে ভিক্টিম হয়ে, নিজের সঙ্গে ঘটা সব অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে দোষী হয়ে গেলাম, আমার জন্য স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হলেন, কিন্তু আসলে তো সেটা না। স্বরূপ বিশ্বাস আমার জন্য গ্রেফতার হয়নি।' এরপর ওই মেকআপ শিল্পী বলেন, 'আমাকে কেউ বলেছিল যে তোমার সঙ্গে যে অপরাধটা হয়েছে, তোমার বাড়ি এসে স্বরূপ বিশ্বাসের নাম করে থ্রেট দিয়ে গিয়েছে, বেড শেয়ার করতে বলেছে...এগুলো নাকি স্বরূপ বিশ্বাস করিয়েছেন। আমাকে কেউ বার বার এই কথা বললে আমিও স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাস করব যে সত্যি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি এগুলো করিয়েছে। আমাকে বলতে বলা হয়েছিল যে তুমি বল যে এগুলো স্বরূপ বিশ্বাসই করিয়েছে। তবে এরা কারা এখনই আমি বলতে চাই না। এখনই আমি কারোর নাম বলতে নারাজ। আমি তাদের একটা কথাই বলেছি যে স্বরূপ বাবু আমার সঙ্গে কোনও বাজে আচরণ করেননি, শ্লীলতাহানি করেননি। আমি তো স্বরূপ বিশ্বাসকে চিনি না আর তিনিও আমায় চেনেন না।' 

Advertisement

মেকআপ শিল্পী এও বলেন, 'আমার একটি ভিডিও, যেটা দেবও শেয়ার করেছিলেন, সেটার নীচেও স্বরূপ বিশ্বাস কমেন্ট করে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় যারা করেছে, সেই দোষীদের শাস্তির দাবিও করেন। যদিও ফেডারেশন প্রাক্তন সভাপতি আমাকে ফোন করেননি। আমি ২৩ মার্চ থেকে আমার লড়াই করে চলেছি।' তিনি জানিয়েছেন, দেব যদিও তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন, দেশু৭-এ তিনদিনের জন্য কাজ করেছেন এই মেকআপ শিল্পী। মহিলা বলেন, 'এর মধ্যে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি আমার কাজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। যদিও আমি অনবরত এই সমস্ত বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেছি, ওঁনার তো উচিত ছিল আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা। আজও কিন্তু যোগাযোগ করেননি। কিন্তু আমি বিবেকের তাড়নায় এই মামলাটি তুলে নিলাম।' 

৪ জুনের ঘটনা প্রসঙ্গে মেকআপ শিল্পী বলেন, '৪ জুন আমি অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম তাদের বিরুদ্ধে, যারা থ্রেট দিয়ে গিয়েছিল বাড়িতে, সেই শান্তনু দে ও বাপি মালাকারের নামে পুলিশের কাছে। আমি মুখে জবানবন্দি দিলেও অভিযোগটি লেখেন অন্য একজন, সে নাকি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে, সেও কাজ পাচ্ছিল না, সেও অভিযোগ জানাতে এসেছিল। আমি তাঁকে চিনি না। তবে আমাকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল স্বরূপ বিশ্বাসের নামে অভিযোগ করতে। কিন্তু আমি প্রথমে প্রতিবাদ করে বলেছিলাম যে আমি তো স্বরূপবাবুকে চিনি না, এগুলো করেছে কি করেনি, আমি এইসবে নেই আর আমি অভিযোগ দিতেও পারবো না। আমার সঙ্গে যতটুকু ঘটেছে ঠিক ততটুকু অভিযোগ করব। আমি মিথ্যে বলতে পারব না। ৪ জুন বিকেলের দিকে আমি লিখিত অভিযোগ করে এলাম আর রাত ৯টার সময় দেখি স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার। আমাকে ওরা প্রেশার দিচ্ছিল, যে এটা বল ওটা বল। কিন্তু আমি তো সত্যি জানি না স্বরূপ বিশ্বাস কী করেছে, না করেছে, আমার জানার দরকারও নেই।' 

মেকআপ আর্টিস্ট বলেন, 'আমি স্বরূপ বিশ্বাসকে চিনলেও তিনি আমায় চেনেন না। তিনি ফেডারেশন সভাপতি আর আমি শ্রমিক শ্রেণীর, যাঁকে একটা কাজও দেওয়া হয় না গিল্ডের থেকে। আমি খুব অত্যাচারিত হয়েছি এই ইন্ডাস্ট্রিতে। আমায় ব্যান করা হয়েছে, কাজ করতে দেওয়া হয়নি, কাজ কেড়ে নিয়েছে। গিল্ড সেক্রেটারি বাপি মালাকার আমায় কাজ করতে দেয়নি। পেটে লাথি মারা হয়েছে আমার। বাপি মালাকারের পিছনে পাওয়ার না থাকলে আমায় থ্রেট দেওয়ার সাহস দেখাতে পারত? বাপি মালাকার স্বরূপ বিশ্বাসের নাম নিয়ে ভয় দেখাতো। আমরা ফেডারেশন সভাপতিকে ভয় পেতাম। যাইহোক, নিজের বিবেচনায় আমার মনে হয়েছে এটা ঠিক হয়নি। আমি অনেক আগেই ভেবেছিলাম কেসটা তুলে নেব। সবই হলো কিন্তু আসল যারা কালপ্রিট (শান্তনু দে, বাপি মালাকার) এদের ধরা হলো না। এই ঘটনার পর স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হয়েছে? মেকআপ শিল্পী বলেন, 'হ্যাঁ কথা বলার ইচ্ছে আছে স্বরূপদার সঙ্গে। একবার কথা বলার চেষ্টা করবো।' 

POST A COMMENT
Advertisement