দেব-শুভশ্রীমাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, আর তারপরই ১৬ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে দেব-শুভশ্রীর বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা 'দেশু৭'। এই ছবি নিয়ে ইতিমধ্য়েই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। দেব-শুভশ্রীর মাখো মাখো অনস্ক্রিন প্রেম দেখার জন্য দর্শকেরা আগাম টিকিট বুকিং করে রেখেছেন। তবে কদিন আগেই দেব মারাত্মক অভিযোগ এনেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রিনশট শেয়ার করে দেব অভিযোগ করেছিলেন যে 'দেশু৭' ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার আগেই কিছু ইউটিউবার ও সমালোচকদের টাকা দিয়ে নাকি পরিকল্পিতভাবে নেগেটিভ রিভিউ করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার প্রতিটি রিভিউয়ের জন্য ২০ হাজার করে দেওয়া হবে। দেবের এই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। সম্প্রতি দেবের এই অভিযোগকে মিথ্যে বলে দাবি করেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও কাহিনি-চিত্রনাট্যকার অর্কদীপ মল্লিকা নাথ।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে টাকার বিনিময়ে নেতিবাচক ও ইতিবাচক রিভিউ কেনাবেচা হওয়া কোনও নতুন বিষয় নয়। হামেশাই এই ধরনের কাজ হয়ে থাকে। দেশু৭ নিয়ে দেবের এই অভিযোগ করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দেবের প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ এই কাজ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি অর্কদীপ মল্লিকা নাথের দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আবারও চর্চা হচ্ছে। কী দাবি করেছেন কুমুদিনী ভবন খ্যাত পরিচালক? অর্কদীপের দাবি, 'দেব নিজেই নিজের ছবির বিরুদ্ধে মেইল করিয়ে নিজেই সামনে এনেছে। খুব সস্তার নিম্নমানের বোকা বোকা পাবলিসিটি। এত উজবুক না আর বাঙালি। সরকার বদলে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, একটা ঢপের ডোমেইন থেকে আসা মেইল। সেটা নিয়ে নাকি মাতামাতি। গোটা ব্যাপারটায় দিদি দিদি গন্ধ।'
যদিও অর্কদীপের এই দাবি আদৌও সত্যি না মিথ্যে সেই বিষয়টি নিয়ে জানা যায়নি। তবে অর্কদীপের এই পোস্টে কিরণ দত্ত তথা বং গাই মন্তব্য করে লেখেন, এরপর তো খারাপ রিভিউ দিলেও লোকে ভাববে টাকা খেয়ে দিয়েছি তাও আবার মাত্র ২০ হাজারে, যদিও এই হাই আইকিউ বাংলা বাজারে আমি বলবো যথেষ্ট স্মার্ট মুভ। কিরণ একদিকে দেবের এই প্রচার কৌশলের প্রশংসাই করেছেন বলা চলে। তবে শুধু কিরণ নন, অনেকেই এই পোস্টে কমেন্ট করে জানিয়েছেন যে দেবের করা ওই মেইল আসলে তিনি নিজেই করেছেন। তবে এই নিয়ে দেবের পক্ষ থেকে কোনও পাল্টা জবাব আসেনি।
ছবির প্রচার কী করে করতে হয়, সে বিষয়ে ভীষণ পারদর্শী দেব। দেব তাঁর প্রচারে সর্বদাই অভিনবত্ব রাখতে চান। তাঁর আগের ছবির ক্ষেত্রেও সেই বিষয়গুলি ধরা পড়েছে। দেশু৭ নিয়ে বছরের প্রথম থেকেই দেব প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর এই কৌশল অন্য নির্মাতাদের বেশ চাপেই রেখেছে। দীর্ঘ এক যুগ অর্থাৎ, ১২ বছর পরে পর্দায় ফিরছে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় দেব-শুভশ্রী জুটি। তাঁদের এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যখন ভক্তদের উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ধরনের পেড-নেগেটিভিটির চক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় টলিউড। তবে এটা যে ছবিরই প্রচারমূলক কৌশল, তা অর্কদীপের মতো নেটিজেনেক একাংশ মনে করছেন।