Deshu7 Review: মারকাটারি অ্যাকশন-ডায়লগ, সঙ্গে উপরি পাওনা দেব-শুভশ্রীর 'ওল্ড রোম্যান্স', কেমন হল 'দেশু৭'?

সুতরাং 'দেশু৭' নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। এক সময় দেব-শুভশ্রীর পর্দায় কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের একের পর এক হিট ছবি রয়েছে ঝুলিতে। তাই প্রথম থেকেই এই জুটির ওপর সেই চাপ কিন্তু ছিল।

Advertisement
মারকাটারি অ্যাকশন-ডায়লগ, সঙ্গে উপরি পাওনা দেব-শুভশ্রীর 'ওল্ড রোম্যান্স', কেমন হল 'দেশু৭'? কেমন হল 'দেশু৭'?
হাইলাইটস
  • বছরের প্রথম থেকেই 'দেশু৭' নিয়ে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে।

ছবির নাম-দেশু৭
পরিচালনা: দেব
অভিনয়: দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, প্রিয়াঙ্কা সরকার, পার্থ সারথী প্রমুখ

বছরের প্রথম থেকেই 'দেশু৭' নিয়ে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। একে তে দেব-শুভশ্রীর মতো হিট জুটি পর্দায় আবার ফিরছে, তারওপর ব্যান কাটিয়ে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যেরও এটি কামব্যাক ছবি। সুতরাং 'দেশু৭' নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। এক সময় দেব-শুভশ্রীর পর্দায় কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের একের পর এক হিট ছবি রয়েছে ঝুলিতে। তাই প্রথম থেকেই এই জুটির ওপর সেই চাপ কিন্তু ছিল। অ্যাকশন আর রোম্যান্স, ছবির বিষয়বস্তু ছিল এটাই। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন মুক্তি পেয়েছে 'দেশু৭'। কেমন হল ছবিটা? পড়ে নিন রিভিউ। 

ছবির গল্প
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত একটি কুখ্যাত এলাকা হল সমস্তিপুর। যেখানে সমাজের যত বেআইনি কাজকর্ম রয়েছে তা ওখান থেকেই অবাধে চলে। সেই সীমান্তপুর বর্ডারে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশি জঙ্গি হানায় প্রাণ যায় ভারতীয় জওয়ানদের। খুনিদের খুঁজে বার করে শাস্তি দিতে জেল থেকে বার করে আনতে হয় খুনের অপরাধী, একদা আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারী ওরফে দেবকে। দেশের সুরক্ষায় যে কোনও সময় খুন করতে পিছপা হয় না যে। তেমনই এক প্রজেক্টে তাকে যুক্ত করা হয়। প্রজেক্ট ‘দেশের সুরক্ষা’, ওরফে দেশু। সীমান্তপুর পৌঁছে তিনজন সাহায্যকারী পায় দেব। খালাসি কাকা, হেলিকপ্টার ও মাসি। তিনজনের সাহায্যে পৌঁছে যায় বড়দা অনুজয় চৌধুরী ও ছোড়দা রনজয় চৌধুরীর খাসমহলে। বড়দার স্ত্রী ডাঃ শুভস্মিতা দেবের একসময়ের ভালোবাসার মানুষ। শুভকে খুঁজে পেয়ে আবারও নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে দেবের। তবে এখানে একটি টুইস্ট আছে। দেব যখন অনির্বাণকে নিয়ে গল্প বলতে শুরু করেন, তখন তিনি চেষ্টা করেন অনির্বাণের কাঁধে এক বিরাট বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ছবির অন্য দুই চরিত্র রানা এবং অনুযয় এই দুই ভূমিকাতেই অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। রানা এবং অনুজয় সম্পর্কে ভাই এবং পেশায়?একজন রাজনেতা অন্যজন, মাফিয়া। শুরুতে যদিও বা দেখানো হয় দুই ভাইয়ের মধ্যে একেবারেই বনিবনা নেই, তবে পরে দেখা যায়, দাদা ভাইয়ের প্রেমে মাঝখানে চিরে চ্যাপ্টা গোটা সীমান্তপুর।  কিন্তু একদিকে তার মিশন অন্যদিকে শুভর বিবাহিত জীবন। কীভাবে দেব সবটা সামলাবে, আর আদৌ শুভকে সে পাশে পাবে কিনা? সেসব জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে।

Advertisement

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

দেব-শুভশ্রীর রসায়ন
এই ছবিতে দেব-শুভশ্রী মুখোমুখি হতেই সিলভার স্ক্রিনে রোমান্স টইটম্বুর। সেই কেমিস্ট্রি বাঙালি আবার এনজয় করবেন। পুরনো কিছু ডায়লগ, তার সঙ্গে পুরনো কিছু গানের স্মৃতি মানুষকে আবার ভাসিয়ে নিয়ে যাবে দেব শুভশ্রীর রঙিন জগতে। লাদাখের পাহাড়ে দেব-শুভশ্রীর রসায়ন কিংবা ডান্স ফ্লোরে তাঁদের একসঙ্গে পা মেলানো, দর্শকদের পয়সা উসুল করে দেবে। যদিও এই ছবির প্রধান লক্ষ্যই ছিল দেব-শুভশ্রীর পর্দার সেই আগের সমীকরণকে ফিরিয়ে আনা, সেটায় সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছেন পরিচালক দেব।  

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

ডায়লগ
২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট সময় টান টান উত্তেজনা, জমাটি সংলাপ আর তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া স্ক্রিপ্ট কখন পার করে দেবে, বোঝা মুশকিল। এই ছবির সব সংলাপই অসাধারণ। বিশেষ করে অনির্বাণের মুখে, শিরায় শিরায় গরম রক্ত আমি দেবের চরম ভক্ত, যা দেবের ফ্যানেদের এক বিখ্যাত ডায়লগ। তাই সংলাপ কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ইউএসপির কাজ করেছে। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

অভিনয়
ছবিজুড়ে শুভশ্রীর জায়গা অনেক হলেও চরিত্রের জোর কম মনে হয়। অভিনয় দক্ষতার প্রলেপ দিয়ে শুভশ্রী তা ঢাকতে চেষ্টা করেছেন ঠিকই। কিন্তু সবটাই চিত্রনাট্যের খেলা। কিছু দৃশ্য নিয়ে না বললেই নয়। প্রথমত, যেভাবে অপরাজিতা, কাঞ্চনরা এই ছবির একটি দৃশ্যে বন্দুক ব্যবহার করেছেন, তা একেবারেই মেকি ও অর্থহীন। দ্বিতীয়ত অনির্বাণের চরিত্রের যে বিশ্লেষণ শেষে দেওয়া হয়, তা মানতে হয় জোর করে। যদিও এই ছবিতে অনির্বাণ নেতিবাচক চরিত্রে নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছে। দেব এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন অভিনয়টা আরও ভাল করার। ছবিতে বাকি যাঁরা রয়েছেন, কাঞ্চন, রজতাভ, প্রিয়াঙ্কা সরকার, অপরাজিতা আঢ্য তাঁরা সকলেই নিজেদের চরিত্রটি সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

পরিচালক দেব কতটা সফল?
একেবারে ব্যর্থ না হলেও কিছুটা সফল হয়েছেন দেব পরিচালক হিসাবে। অভিনেতার পাশাপাশি এই ছবির মাধ্যমে দেবের পরিচালক হওয়ার সফর শুরু। দেব চেষ্টা করেছেন, সবাইকে নিয়ে একটা সুন্দর বিনোদনমূলক কর্মাশিয়াল ছবি পুজোতে উপহার দিতে। হ্যাঁ, সেটা দেব করিয়ে দেখিয়েছেন। সেইদিক থেকে দেখতে হলে দেব পরিচালক হিসাবে একেবারে সফল। তবে সিনেমার বাঁধনি একটু হলেও আলগা রয়েছে। কিছু কিছু দৃশ্য না দেখালেও চলতো। অযথা কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে প্রথম ছবি, তাই দেবের ভুলচুক মাফ করে দেওয়াই যায়। 

 

সব মিলিয়ে দেশু৭ কেমন?
চিত্রনাট্য ও সংলাপে রোহিত-সৌম্য, সম্রাট শর্মা ও দেব, তিন ঘণ্টার (বিরতি নিয়ে) কোথাও ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে দেননি। দেব, শুভশ্রী, অনির্বাণ যদি এই ছবির তিন স্তম্ভ হন, চতুর্থ অবশ্যই রথিজিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ্যে ‘ও দয়াল ও দয়াল’ কিংবা ‘বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের মেলা’, ভাঙচুর রক্তারক্তির দৃশ্যকেও মধুর মতো উপভোগ্য করে তুলেছে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে গানগুলি দর্শকদের আনন্দ দেবে, বিশেষ করে ‘নাচে রে বাংলা’ ও ‘ইলিশ চন্দনা’। শুভঙ্কর ভড়ের চিত্রগ্রহণ, মোঃ কালামের সম্পাদনা ক্লান্ত করে না কোথাও। ইধিকা পাল আইটেম নম্বরে দুরন্ত, পারফরম্যান্সে খামতি রাখেননি তিনি। গানের শেষে দেবের সঙ্গে তাঁর জুটির বিখ্যাত সেই গান কিশোরীকেও মনে করিয়ে দিলেন দেব। সংলাপে সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে দেব কিংবা অনির্বাণের সিগনেচার স্টাইলের নানান ইস্টার এগ। এখানেই ‘দেশু সেভেন’ অন্য অ্যাকশন ছবির চেয়ে আলাদা। ছবির সিরিয়াস প্লট এবং দর্শকদের জন্য উপরি মজা দুই চলেছে সমান্তরালভাবে। অতএব খানিকটা এন্টারটেইনমেন্ট যদি চান, তাহলে অবশ্যই দেশু৭ ওয়ান টাইম ওয়াচ হতেই পারে। 

Advertisement


 

     

POST A COMMENT
Advertisement