
বিগ বস বাংলা'বিগ বস বাংলা' সিজন ৩ ক্রমেই জমে উঠেছে। এই ঘরে প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথমদিকে যে সমীকরণ ছিল, তা এখন আমূল বদলে গিয়েছে। একসময় গলায় গলায় যাঁরা বন্ধু ছিলেন, আজ তাঁরাই এই ঘরে একে-অপরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। সেরকমই এক প্রতিযোগী হলেন সৃজলা গুহ। বাড়ির প্রায় সকলেই সৃজলার সঙ্গে এখন সেভাবে কথা বলেন না। জিতু কমল ছাড়া সৃজলাকে আর কারোর সঙ্গেই কথা বলতে দেখা যায় না। আসলে এই রিয়্যালিটি শোয়ে কে আসল বন্ধু আর কে শত্রু, তা বোঝা বড় দায়। সোমবার মানেই নমিনেশন ডে। আর এইদিন বিগ বস-এর টুইস্টে ফের একবার সৃজলার সঙ্গে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েন বাড়ির অন্য দুই সদস্য।
বিগ বস-এর টুইস্ট অনুযায়ী মনামীকে পাওয়ার দেওয়া হয়েছিল বাড়ির পাঁচজন নমিনেশনে অংশ নিতে পারবেন। সেই পাঁচজনের মধ্য়ে মনামীও থাকতে পারেন। মনামী সেই তালিকায় রেখেছিলেন সৌরভ, সোনামণি, নন্দিনী, নিরঞ্জন ও নিজেকে। নন্দিনী কনফেশন রুমে গিয়ে সবাইকে অবার করে সৃজলাকে সেভ করেন। আসলে নমিনেশন পর্বে নন্দিনীর হাতে সৃজলার কার্ড আসে। আর সকলেই ভেবেছিলেন যে নন্দিনী হয়তো সৃজলাকে নমিনেট করবেন। কিন্তু সেরকমটা হয়নি। তিনি জানান, সৃজলা শারীরিক আঘাত পেয়েছেন, শুধুমাত্র সেই কথা মাথায় রেখেই তাঁকে সেভ করছেন। যেখানে সবাই ভেবেছিলেন নন্দিনী হয়তো বদলা নেবেন, সেখানে তাঁর এই পদক্ষেপ বেশ নজর কেড়েছে।

অপরদিকে, ক্যাপ্টেন হওয়ার টাস্কে মনামীকে সাহায্য করেছিলেন সৃজলা, সেই মনামী মন ফাগুন অভিনেত্রীর পিঠে ছুরি মারেন। নমিনেশন পর্বে মনামীর হাতেও সৃজলার কার্ড এসেছিল। তখন তিনি সোজা সৃজলাকে নমিনেট করে বসেন! মনামীর সাফ যুক্তি, সৃজলার সঙ্গে তাঁর সেভাবে কোনও বন্ডিং তৈরি হয়নি। তাছাড়া টাস্কের সময় সৃজলা যা বলেন, বাস্তবে সবসময় তা করেন না। প্রকাশ্যে বিষয়টা আসার পরেই চটে লাল সৃজল। মনামীর কোনও যুক্তি তিনি শুনতে নারাজ। মাত্র চার দিন আগেই মনামীর জন্য খেলেছিলেন তিনি। এই ঘটনার পরেই রেগে আগুন হয়ে যান সৃজলা। প্রকাশ্যেই কড়া হুমকি দিয়ে বলেন, “এই সপ্তাহে বেঁচে গেলে সকলের কপালে দুঃখ আছে!”
নমিনেশনের জটিল জালে জড়িয়ে বর্তমানে ডেঞ্জার জ়োনে রয়েছেন রাজবীর, সৃজলা, তনুশ্রী এবং নন্দিনী। বিগ বসের ঘরে কখন যে কার রূপ বদলায়, তা আগে থেকে বোঝা প্রায় অসম্ভব। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই নতুন শত্রুতা ও বন্ধুত্ব কোন দিকে মোড় নেয়। রবিবার ঘর থেকে চলে গিয়েছেন ভরত কল। বিগ বস-এর প্রথমদিন থেকে তিনি ভাল খেলা খেলছিলেন। তবে দর্শকদের ভোটে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।