বি গ্রেড সিনেমার শ্যুটিং হয় কীভাবে?বি গ্রেড ছবি মানেই সাহসী দৃশ্য। উদ্দাম ঘনিষ্ঠতা। এই কারণেই জনপ্রিয় এই ধরনের ফিল্ম। এই ছবিতে কাজ করেই অনেক টেলি ও বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁদের কর্মজীবন শুরু করেছেন। এমনকী অনেকেই নিজেদের আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বি গ্রেড ফিল্মে করেছেন কাজ। অভিনয় করেছেন বোল্ড দৃশ্যে। সেই সব দৃশ্য ভাইরালও হয়েছে অনেক সময়। আর সেই দৃশ্য দেখার পরই অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন, ঠিক কীভাবে শ্যুটিং হয় বি গ্রেড সিনেমা? কারা কাজ করেন? ইন্টিমেট দৃশ্য শ্যুট হয় কীভাবে? আর সেই উত্তরটা ঝটপট জেনে নেওয়া যাক।
বি গ্রেড ছবি সাধারণত কম বাজেটে তৈরি করা হয়। এটি খুব কম সময়ের মধ্যে বানানো হয়। এই ছবিতে কাজও করে খুবই ছোট ক্রু। এই ছবি বানানোই হয় দ্রুত লাভ করার জন্য।
বি গ্রেড ছবির শ্যুটিং হয় কীভাবে?
আগেই বলেছি, এই সব ছবির বাজেট থাকে কম। তাই এখানে বড় বাজেটের ছবির থেকে উল্টোভাবে কাজটা হয়। যেখানে বড় বাজেটের ছবিতে প্রথমে স্ক্রিপ্ট, তারপর লোকেশন ঠিক হয়, সেখানে বি গ্রেড ছবিতে প্রযোজকরা প্রথমেই লোকশন খুঁজে নেন। এক্ষেত্রে কোনও হোটেল, গেস্ট হাউস, ফার্মহাউজ বা একটি ইনডোর লোকেশন বেছে নেওয়া হয়। সেই লোকেশনকে কেন্দ্র করেই গল্প তৈরি করা হয়। সাজিয়ে ফেলা হয় দৃশ্য।
ঠিক এই কারণেই এই সিনেমাগুলিতে প্রায়শই হোটেলের ঘর থেকে শুরু করে জঙ্গল, গ্রামের বাড়ি, ডাকাতের আস্তানা বা ভুতুড়ে প্রাসাদের মতো লোকেশন বেশি দেখা যায়। বাজেট কম থাকার জন্যই এই ধরনের লোকেশনে শ্যুট করা হয় বি গ্রেড ছবি।
বড় তারকারা থাকেন না
বি গ্রেড সিনেমায় কোনও বড় স্টার থাকেন না। নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী, স্ট্রাগলার, নতুন মডেলদের নিয়েই তৈরি হয় ফিল্ম। সাধারণত এই ধরনের ফিল্মে যিনি পরিচালক, তিনিই আবার শিল্প নির্দেশক, কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।
খুব দ্রুত হয় শ্যুটিং
মাথায় রাখতে হবে, বি গ্রেড সিনেমা খুবই তাড়াতাড়ি শ্যুটিং করা হয়। অনেক ছবি চার-পাঁচ দিনেই শেষ হয়ে যায়। প্রি, পোস্ট পোস্ট প্রোডাকশন সহ ছবির সব কাজ অনেক ক্ষেত্রেই ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এছাড়া এই ফিল্মের শিফট হল অনেকটা বেশি সময়ের। যেই কারণে দ্রুত শেষ করা যায় পুরো কাজ।
সাহসী দৃশ্য ও জমকালো পোস্টার
অধিকাংশ বি গ্রেড সিনমেয়া গল্পের চেয়ে বেশি ফোকাসে থাকে সাহসী দৃশ্য। সেই সঙ্গে ভয় বা অ্যাকশন দৃশ্যের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেটে শুধু অপরিহার্য কলাকুশলীদেরই রাখা হয়। খুব সতর্ক হয়েই এই সিনগুলো শ্যুট করা হয়। অভিনেতা ও অভিনেত্রীর অস্বস্তি দূর করার ব্যবস্থাও থাকে বলে জানা যায়।
এই ছবিগুলি ছোট শহরের সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলিকে টার্গেট করেই বানানো হয়ে থাকে। সেখানকার দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য পোস্টার এবং ট্রেলার ইচ্ছাকৃতভাবে জমকালো করা হয়।
আগে এই সিনেমাগুলো শুধুই ছোট শহরের সিঙ্গল স্ক্রিনে দেখানো হতো। তবে এখন সিঙ্গল স্ক্রিনের জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে। তাই এখন ইউটিউব ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ফিল্মগুলি রিলিজ হয়। কম খরচ, দ্রুত নির্মাণ এবং ভাইরাল পোস্টারই বি গ্রেড সিনেমার আসল ফর্মুলা হয়ে উঠেছে।