শুভেন্দুর সঙ্গে যশটলিউডের হ্যান্ডসম নায়ক হিসাবেই পরিচিত যশ দাশগুপ্ত। ঝুলিতে সেভাবে হিট বাংলা ছবি না থাকলেও বলিউডেও অভিনয় করেছেন তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির একগুচ্ছ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সেই তালিকায় নাম ছিল যশেরও। সেই সময় চণ্ডীতলা বিধানসভা থেকে যশকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে হেরেছিলেন যশ। আর তারপর থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে দুরত্ব বাড়ে যশের। যদিও যশের সঙ্গিনী তথা নায়িকা নুসরত আবার সেই সময় ছিলেন তৃণমূল সাংসদ। পরে সাংসদ পদ ছেড়ে দিলেও শাসক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নায়িকার। যশকেও মাঝে মধ্য়ে দেখা যেত তৃণমূল সরকারের অনুষ্ঠানে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে গোটা সমীকরণটাই বদলে গেল। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকে পদানত করে রাজ্যে ফুটল পদ্মফুল। আর সেই গেরুয়া ঝড়েই ফের মন বদলে গেল যশেরও।
বিজেপি রাজ্যে জয়ী হতেই যশের পক্ষ থেকে তাঁর পুরনো দলকে শুভেচ্ছা জানানোর পালা শেষ হতে না হতেই তাঁর আর একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিল। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহানের স্বামী হওয়া সত্ত্বেও, বিজেপির এই বিরাট জয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও শুভেন্দুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করেননি যশ। শপথগ্রহণের পরই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা দেন যশ। তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শুভেন্দু অধিকারীকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। রাজনৈতিক সংগ্রামের অত্যন্ত কঠিন কিছু মুহূর্তে, বাংলার মানুষের প্রতি আপনার নিরলস নিষ্ঠা, অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা এবং গভীর অঙ্গীকার আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’
যশ আরও লেখেন, ‘আজ বাংলা বেছে নিয়েছে পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে। আমাদের রাজ্যকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির এক নতুন যুগের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় আপনার অসীম শক্তি ও সাফল্য কামনা করি।’ যশ যে ছবিটি শেয়ার করেছেন, সেটা তাঁর একুশের বিধানসভা নির্বাচনের, যেখানে শুভেন্দুকে দেখা গিয়েছিল তাঁর প্রচারে। যদিও ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের কিছুমাস আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক চ্যাট শোতে নুসরতের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল যশকেও। যদিও প্রাক্তন রাজ্য সরকারের কোনও অনুষ্ঠানে অভিনেতার উপস্থিতি সেভাবে নজরে আসেনি এটা ঠিকই।
যশ দাশগুপ্তের এই পোস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই টলিপাড়ার অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ, যশের ঘরণী নুসরত জাহান দীর্ঘ সময় তৃণমূলের তারকা সাংসদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হেরে যাওয়ার পর যশ বিজেপির থেকে দুরত্ব বাড়ালেও রাজ্য়ে গৈরিক সূর্যোদয় হতেই ফের তিনি সক্রিয়ভাবে দলে ফিরতে চাইছেন কিনা, সেটা সময়ই বলবে।