শ্রীলেখা মিত্রশুক্রবার ধর্মতলায় CJP আন্দোলনে ধুন্ধুমার কাণ্ড। আর এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিপদ বাড়ালেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। আর এই প্রসঙ্গে রবিবার নিজের ফেসবুকে এসে সবটা জানালেন শ্রীলেখা।
শ্রীলেখা জানান যে সকাল থেকে এই নিয়ে তাঁর কাছে একাধিক ফোন আসছে, তাই অভিনেত্রীর মনে হয়েছে যে কী ঘটেছে তা জানানো উচিত। শ্রীলেখা তাঁর ভিডিওতে বলেন, 'আমি একটা বিশেষ পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি, সেটা ভাইরাল করা হয়েছে এবং সেই ছবিটা দেখলেই বুঝতে পারবেন যে কী কেন এই বৃত্তান্ত। আমি ওখানে যতই বিজেপি বিরোধী হই বা মোদী বিরোধী হই, আমাকে কেউ দেশদ্রোহী অ্যাখা দিলে সেটাও যেমন ভীষণ হাস্যকর ব্যাপার, তেমনি যদি কেউ মনে করে ওইরকম ছবি, আমি ইচ্ছা করে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, তাহলে সেটাও ঠিক নয়।'
শ্রীলেখা এও বলেন, 'দিল্লি থেকে এই পোস্টারিংগুলো হয়েছে, সেটা অত লাখ লাখ পড়ুয়াদের মধ্যে, ঘামের গন্ধ, মাঠের ভিতর দাঁড়িয়ে বিপ্লব যেটা, ওইরকম একটা আন্দোলন, যেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করছে তখন কিন্তু আমি আর পাঁচটা যুব ছাত্রদের সঙ্গে আমিও দৌড়েছি। এটা আমার জীবনের প্রথম এরকম একটা অভিজ্ঞতা।' অভিনেত্রী বলেন যে তাঁর মেয়েও বড় হচ্ছে। তিনি চশমা ছাড়া গিয়েছিলেন, সানগ্লাস পরে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে ওই অত ভিড়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শরীরের নীচের অংশের দিকে চোখ যায়নি। এরপর সাফাই দিতে গিয়ে শ্রীলেখা বলেন, 'অধিকাংশ মেয়েরাই পুরুষদের নিম্নাঙ্গ দেখে না। সুতরাং মোদীজির ওরকম একটা ছবি দেখে মজা লেগেছে, কিছু ছেলে যাচ্ছিল পোস্টারটা নিয়ে, সেটা নিয়ে ছবি তুলেছি। দেখিওনি পোস্টারটা ঘুরিয়ে, সময় ছিল না, কারণ পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছিলো।'
এরপর অভিনেত্রী জানান যে তারপরই তিনি শুনতে পান যে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শ্রীলেখা এরপর বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বলেছেন ভয় আউট ভরসা ইন। তা আপনারা তো মানুষের মনে ভয় ধরানোর চেষ্টা করছেন। এমন শাস্তি দেবেন আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যে তিন পুরুষ মনে থাকবে। অভিনেত্রী এও জানান যে এরপর থেকে তিনি পুরুষ মানুষদের নীচের দিকে দেখবেন এবং পরে তাঁদের চোখের দিকে তাকাবেন। শ্রীলেখা শেষে বলেন, আমায় গ্রেফতার করার ইচ্ছা হলে করবেন, ফাঁসিতে চড়াতে হলে চড়াবেন, আবার একটা আন্দোলন হবে। আপনারা তৈরি তো, আমি তৈরি। প্রসঙ্গত, শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ এবং বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাতেও অভিযোগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।